সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তথ্য
- মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: রুহুল কবির রিজভী
- আইনি বিষয়: সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গাছ কাটার মামলায় বিএনপি ও কৃষক লীগ নেতাসহ ২০ জন আসামি
- রাজনৈতিক মন্তব্য: সরকার চরম ব্যর্থ ও ফ্যাসিস্টের পথে হাঁটছে বলে জামায়াতের অভিযোগ
- অন্যান্য: ৪ জেলা থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেনের প্রস্তাব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এই পদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবেন। নির্ভরযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভীর মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তিনিও দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় প্রধানের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। এই প্রবণতা দলীয় প্রধানকে অতিমাত্রায় ক্ষমতাবান করে তোলে। অতীতে মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতি পদে কে বসবেন তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা বা আমলাদের কেউ মো. সাহাবুদ্দিনের নাম সেভাবে সামনে আনেননি।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন? গতকাল বৃহস্পতিবার বর্ষীয়ান নেতা রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী মহাসচিব কে হবেন, তা জানতে হয়তো পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি প্রধান ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে এমন একজন মহাসচিব বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যিনি বর্তমানের নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম।
মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরিকে এমনভাবে দল গড়তে হবে, যেখানে নারী, তরুণ, পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের আস্থা অর্জন করা নতুন মহাসচিবের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে স্বার্থান্বেষী মহলের ভিড় বাড়ে, যা তৃণমূলের অভিজ্ঞ নেতাদেরও প্রভাবিত করে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন মহাসচিবকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির সাবেক মহাসচিবদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী থেকে শুরু করে কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন পর্যন্ত অনেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন। জিয়াউর রহমান তার ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বেছে নিয়েছিলেন, যেখানে শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে প্রকৃত অংশীদারিত্ব ছিল। তারেক রহমানের উচিত কেবল সহমত পোষণকারী নয়, বরং এমন একজন আন্তরিক অংশীদার খুঁজে বের করা যার নিজস্ব ধারণা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা আছে।
তারেক রহমানের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্বের পৃথকীকরণ। ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মহাসচিবের হাতে থাকার যে অলিখিত নিয়ম রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের পতনের অন্যতম কারণ ছিল ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ এবং দলীয় প্রধানের হাতে সব সিদ্ধান্ত ন্যস্ত থাকা। বিএনপিকে এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের প্রতি জনগণের অনীহা স্পষ্ট। নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিএনপিকে ভিন্ন ধারায় গড়ে তোলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। দলের গঠনতন্ত্রে দলীয় প্রধানকে যেকোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা পরিবর্তনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চার শুরুটা হতে পারে নতুন মহাসচিব নিয়োগের মাধ্যমেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ৭০ অনুচ্ছেদ: জুলাই সনদে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘বাংলাদেশের মানুষ একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, আমি নই’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের বিশ্বাস, পূর্বতন ব্যক্তি এই পদের যে মর্যাদাহানি করেছিলেন, তার অনেকটাই তিনি ফিরিয়ে আনবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানে তারেক রহমানও সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি নীতিনিষ্ঠ ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিবেচনায় সহজেই অনুমেয়, সবাই দলীয় প্রধানের পছন্দটি আঁচ করে সেই অনুযায়ীই নিজেদের মতামত দিতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাতে ফলাফল হয়তো একই থাকত, কিন্তু সেটা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত বলে প্রতিষ্ঠিত হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ, এমন একটি প্রত্যাশিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হাতছাড়া হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্নজনের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, দলীয় আনুগত্য, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যসহ আরও নানা ধরনের মাপকাঠিতে কে এগিয়ে তা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল।






