নিউট্রিনো গবেষণায় পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন অধ্যাপক ফ্রান্সিস হ্যালজেন

প্রকাশ:
Print news

মহাবিশ্বের রহস্যময় এবং অতি ক্ষুদ্র কণা নিউট্রিনো শনাক্তকরণের জন্য বিশাল এক পর্যবেক্ষণাগার তৈরির পথপ্রদর্শক হিসেবে বেলজিয়ামের পদার্থবিদ অধ্যাপক ফ্রান্সিস হ্যালজেন এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির (IceCube Neutrino Observatory) সফল বাস্তবায়নে তার বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্ব ছিল অসামান্য। ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৯৬।

১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্তের এই উচ্চাভিলাষী আইডিয়া প্রথম উপস্থাপন করেছিলেন হ্যালজেন। পরবর্তীতে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী অ্যান্টার্কটিকার প্রায় এক কিলোমিটার ঘন বরফের নিচে হাজার হাজার আলোকসংবেদী সেন্সর স্থাপন করা হয়। এই পর্যবেক্ষণাগারটির লক্ষ্য ছিল সূর্য থেকে পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত আসা সাধারণ নিউট্রিনো নয়, বরং দূরবর্তী ছায়াপথে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মতো উচ্চশক্তির মহাজাগতিক ঘটনায় সৃষ্ট নিউট্রিনো শনাক্ত করা। ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে যুক্ত হলেন শিক্ষক-শ্রমিকরা, আটক ৫ হাজার। যাত্রী কমছে অভ্যন্তরীণ ৪ বিমানবন্দরে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ১৫ অক্টোবর থেকে ভাইভা। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নিউট্রিনো শুধু মহাকাশের দূরবর্তী ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।

নিউট্রিনোকে কেন ‘ভুতুড়ে কণা’ বলা হয়, তার কারণ হলো এগুলোর অত্যন্ত ক্ষীণ মিথস্ক্রিয়া। আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো অনায়াসে চলে গেলেও তাদের প্রভাব প্রায় নেই বললেই চলে। তবে অতি বিরল ক্ষেত্রে যখন কোনো নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে সংঘর্ষ ঘটায়, তখন সৃষ্ট নীল আলোর ঝলক আইসকিউবের সেন্সরগুলো শনাক্ত করে। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা কণাটির উৎস সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। সেকেন্ডে শরীর ভেদ করে যায় ১০০ ট্রিলিয়ন কণা, ‘গোস্ট পার্টিকেল’ নিউট্রিনো গবেষণায় এবারের নোবেল। আলোটি কখন এবং কোন দিকে তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোটি কোথা থেকে এসেছে তা অনুমান করতে পারেন।

নোবেল পদার্থবিজ্ঞান কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মার্ক পিয়ার্স হ্যালজেনের কাজকে নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পদার্থবিজ্ঞানী উলফগ্যাং পাওলি ১৯৩০ সালে প্রথম এই কণার অস্তিত্বের তাত্ত্বিক ধারণা দিয়েছিলেন, যা ১৯৫০-এর দশকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে নিউট্রিনোর তিনটি ধরন বা ‘ফ্লেভার’ (ইলেকট্রন, মিউন ও টাও) এবং তাদের অসিলেশনের বিষয়টি বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।

কণাপদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী নিউট্রিনোর ভর থাকার কথা নয়, কিন্তু অসিলেশন প্রমাণের ফলে এটি স্পষ্ট হয় যে নিউট্রিনোর ভর ক্ষুদ্র হলেও তা শূন্য নয়। এই আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের পদার্থ ও প্রতিপদার্থের অসমতার রহস্য সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মহাবিশ্বে বিগ ব্যাংয়ের পর পদার্থ ও প্রতিপদার্থের সমপরিমাণ উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পদার্থের প্রাধান্য দেখা যায়, যার ব্যাখ্যায় নিউট্রিনোর আচরণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউট্রিনো গবেষণার সাথে জড়িয়ে আছে ডার্ক ম্যাটারের প্রশ্নটিও। অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি বুঝতে বিজ্ঞানীরা ‘স্টেরাইল নিউট্রিনো’ নামের এক ধরনের ভারী কণার অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন। এছাড়া নিউট্রিনো নিজেই নিজের প্রতিকণা কি না, তা জানতে ‘নিউট্রিনোলেস ডাবল বিটা ডিকে’ প্রক্রিয়ার সন্ধান করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান সময়ে মহাবিশ্বের চরম ও উচ্চশক্তির ঘটনাগুলো অনুধাবনে এবং ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি উদঘাটনে নিউট্রিনো একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অধ্যাপক হ্যালজেনের দীর্ঘ অধ্যবসায় আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের এই রহস্যময় অধ্যায়কে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের অন্যান্য বিভাগের ঘোষণা ও সময়সূচি নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে, যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন
শিরোনাম :
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যে থমাস ডুলি কর্মীদের বিএমডব্লিউ উপহার দিলেন চীনা রেস্তোরাঁ মালিক জাপান সফরে ৬ সহযোগিতা চুক্তি ও ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মোশাররফ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব উখিয়ার ইনানীতে নলকূপের গ্যাসে আগুন, ৪০ ঘণ্টাতেও অধরা নিয়ন্ত্রণ ৯ ব্যাংক ও ২ প্রতিষ্ঠানে ৯০৩ সিনিয়র অফিসারের প্রিলিমিনারি ১৩ নভেম্বর আনুশেহ আনাদিলের: আমাকে দেখতে কী নেশাখোরের মতো লাগে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু চারশ ছাড়ালো, আক্রান্ত সোয়া লাখের বেশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানো ছাড়া বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৪ কফি পানে সবার প্রতিক্রিয়া কেন এক হয় না? গুম ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিতের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের এশিয়া কাপ আরচারি: কাজাখস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল বাংলাদেশের নারী দল জিম্বাবুয়েকে ৩৭ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান বেসরকারি চাকরিতে বেতনের অস্পষ্টতা: দর-কষাকষির কৌশল ও করণীয় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার উত্তপ্ত বিতর্ক, সামলালেন খলিলুর রহমান প্রয়াত ডিজাইনার রোহিত বালকে শ্রদ্ধা জানালেন সোনম কাপুর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ইসরায়েলের নির্বাচনে সরকার বদলালে ফিলিস্তিনিদের জীবনে কি আসবে পরিবর্তন? বিলবোর্ডের শীর্ষ তালিকায় টানা ৩১ সপ্তাহ বিটিএস-এর অ্যালবাম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যে থমাস ডুলি কর্মীদের বিএমডব্লিউ উপহার দিলেন চীনা রেস্তোরাঁ মালিক জাপান সফরে ৬ সহযোগিতা চুক্তি ও ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মোশাররফ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব উখিয়ার ইনানীতে নলকূপের গ্যাসে আগুন, ৪০ ঘণ্টাতেও অধরা নিয়ন্ত্রণ ৯ ব্যাংক ও ২ প্রতিষ্ঠানে ৯০৩ সিনিয়র অফিসারের প্রিলিমিনারি ১৩ নভেম্বর আনুশেহ আনাদিলের: আমাকে দেখতে কী নেশাখোরের মতো লাগে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু চারশ ছাড়ালো, আক্রান্ত সোয়া লাখের বেশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানো ছাড়া বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৪ কফি পানে সবার প্রতিক্রিয়া কেন এক হয় না? গুম ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিতের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের এশিয়া কাপ আরচারি: কাজাখস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল বাংলাদেশের নারী দল জিম্বাবুয়েকে ৩৭ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান বেসরকারি চাকরিতে বেতনের অস্পষ্টতা: দর-কষাকষির কৌশল ও করণীয় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার উত্তপ্ত বিতর্ক, সামলালেন খলিলুর রহমান প্রয়াত ডিজাইনার রোহিত বালকে শ্রদ্ধা জানালেন সোনম কাপুর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ইসরায়েলের নির্বাচনে সরকার বদলালে ফিলিস্তিনিদের জীবনে কি আসবে পরিবর্তন? বিলবোর্ডের শীর্ষ তালিকায় টানা ৩১ সপ্তাহ বিটিএস-এর অ্যালবাম