চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার অন্তর্গত উত্তর পাহাড়তলী মৌজার লেকসিটি আবাসিক এলাকায় পাহাড়ের ঢালে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও দখলদারিত্বের অভিযোগ
অভিযান পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি উপস্থিত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আকবর শাহ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় সাবেক চসিক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন এই এলাকায় সরকারি পাহাড় দখল করে একটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে তুলেছিলেন। খাস পাহাড়ের শত শত প্লট তৈরি করে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই প্লট বাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালী গ্রুপ জড়িয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও পাহাড় দখল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, এই এলাকাটি পরিদর্শনে গিয়ে অতীতে হামলার শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসান।
পরবর্তী পদক্ষেপ
- পাহাড়তলী মৌজার নির্ধারিত চারটি দাগে পাহাড়ের ঢালে নির্মিত সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
- সরকারি খাস জমি ও পাহাড় দখলদারদের কবজা থেকে পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রশাসন।
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।






