দুই কোটি টাকা ঘুষ দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-৩ মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার কথোপকথনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ৬ কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি ২ কোটি টাকার কমে নড়ব না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা।
তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের দেওয়া আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) নম্বর বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এর আগে রবিবার রাতে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উক্ত বিধিমালার ১৪১ (১) নং বিধি অনুসারে জনাব মো. নুরুল আমিনকে বিউবো’র চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। ”।
প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন ঠিকাদারদের বিল প্রদান ও মালামাল সরবরাহ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা যায়, আমি দুই কোটি টাকার নিচে নেব না। ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, হিসেব করলে দেখা যাবে ওই ব্যক্তি পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাৎ করেছেন। সেই পাঁচ কোটি টাকা থেকে আমাকে দুই কোটি টাকা দিলে আমি সব নথিতে স্বাক্ষর করে দেব। এ সময় তিনি এসি স্যারসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন।
ভিডিওর একটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তিকে গোপন ক্যামেরার সামনে নগদ টাকা দিতেও দেখা গেছে। প্রকৌশলী নুরুল আমিন ওই ব্যক্তিদের উদ্দেশে জানতে চান এখানে কত টাকা আছে, তখন এক ব্যক্তি জানান ৩৫ হাজার। প্রকৌশলী তখন সেটি এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিশ্চিত করেন এবং অপর ব্যক্তি জানান যে তিনি আগেও এক লাখ টাকা দিয়েছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মিটার সংযোগ, নতুন লাইন নির্মাণ ও সংস্কারের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। সোমবার বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে তার দেখা মেলেনি। ভোরের দিকে একবার কার্যালয়ে এলেও দ্রুত বাসভবনে ফিরে যান তিনি এবং সন্ধ্যার পর একটি প্রাইভেটকারে করে সরকারি বাসভবন থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কোনো কথা বলেননি।





