বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনই দলের বিজয় নয়, বরং প্রতিটি কর্মীর জন্য আসল বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। শুক্রবার সকালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে আখিরাতে মুক্তির জন্য নিরলস কাজ করে যেতে হবে।
ইসলামের বাস্তব প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু মুখে ইসলামের কথা বললে হবে না, বরং জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মাওলানা মওদুদীর ‘সত্যের সাক্ষ্য’ ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে বাস্তব সাক্ষ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংখ্যায় প্রায় ২০০ কোটি হলেও মুসলমানরা বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এর বিপরীতে অল্পসংখ্যক ইসরায়েলি ইহুদিরা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে, যার মূল কারণ মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শক্তি ও বাস্তব চেতনার ঘাটতি।
মদিনার প্রাথমিক যুগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার সময় মুসলমানদের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু তখন পারস্য ও রোমের মতো শক্তিশালী সাম্রাজ্য তাদের ভয় পেত। বর্তমান সময়ে মুসলমানদের অত্যাধুনিক মসজিদ ও আড়ম্বরপূর্ণ জীবন থাকলেও সেই ঈমানি শক্তি নেই। তিনি আরও বলেন, দুনিয়াবি সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তা অর্জনের পথ হতে হবে বৈধ। অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় গিয়ে দলের বিজয় নিশ্চিত করলেও তাতে ব্যক্তির মুক্তি নেই; কারণ আল্লাহর কাছে প্রত্যেককে নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে। সূরা আস-সফের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ঈমান ও আল্লাহর পথে সংগ্রামই মানুষকে কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে, যেখানে মেধা, শক্তি ও সময় ব্যয় করা জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে এবং সরকারের ভেতরের কিছু মহল ও দিল্লির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে ভূমিকা রাখছে। তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও আল্লাহর রহমতের ফসল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের পর মানুষ দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের অতীত বামপন্থী সংশ্লিষ্টতা ও কিছু মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, অতীতে বিএনপি সরকারের সময়েও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দীর্ঘদিন বামপন্থী মতাদর্শের প্রভাব ছিল এবং আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে এই শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শের রাজনীতি চালিয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যকে তিনি তরুণ প্রজন্মের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্মেলনটি সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি এবং সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও ছাত্রশিবির খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান। সম্মেলনে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মসজিদে ছিল না আজকের মতো জাঁকজমক, ছিল না দামি কার্পেট বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কে বেশি বাড়ি করবে, কে বেশি সম্পদের মালিক হবে এসব নিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্পদ থাকলেই জাকাত ও দান-সদকা করা সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন চোর ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চুরি করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও তার চুরি বৈধ হয়ে যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইভাবে দলের জন্য অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীকে নিজের আখিরাতের সফলতার জন্যও কাজ করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।






