পুরুষের বন্ধ্যত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অ্যাজোস্পারমিয়া, যার অর্থ বীর্য পরীক্ষায় কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়া। অনেক পুরুষই এই সমস্যা জানার পর হতাশ হয়ে পড়েন, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর সমাধান রয়েছে। অ্যাজোস্পারমিয়া মূলত দুই ধরনের—অবস্ট্রাকটিভ এবং নন-অবস্ট্রাকটিভ। অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পারমিয়ার ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হলেও কোনো বাধার কারণে তা বীর্যের সাথে বাইরে আসতে পারে না। এই ধরনের সমস্যায় চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে পিইএসএ (PESA) বা টিইএসএ (TESA) পদ্ধতির মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে সরাসরি শুক্রাণু সংগ্রহ করে আইভিএফ (IVF) বা ইকসি (ICSI) প্রযুক্তির সাহায্যে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করা সম্ভব।
অন্যদিকে, নন-অবস্ট্রাকটিভ বা সিক্রেটরি অ্যাজোস্পারমিয়ার ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হয় না অথবা পরিণত শুক্রাণু তৈরি হতে পারে না। এই অবস্থায় আইভিএফ বা টেস্টটিউব পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ সফলতার জন্য স্বামীর সুস্থ ও পরিণত শুক্রাণুর প্রয়োজন হয়। মনে রাখতে হবে, অ্যাজোস্পারমিয়ার চিকিৎসায় কোনো ওষুধ সেবনের মাধ্যমে শুক্রাণু তৈরি করা সম্ভব নয়; তাই ইকসি বা আইভিএফ পদ্ধতিই একমাত্র কার্যকর উপায়।
চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোগীকে সাময়িকভাবে অচেতন করে পিইএসএ বা টিইএসএ পদ্ধতিতে অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়। একই সময়ে, স্ত্রীর ডিম্বাণু পরিপক্ব করার জন্য ১০ থেকে ১২ দিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর স্ত্রীকেও সাময়িকভাবে অচেতন করে ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। মাইক্রো ম্যানিপুলেটর ইকসি যন্ত্রের সাহায্যে ডিম্বাণুর ভেতরে শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে স্ত্রীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
অ্যাজোস্পারমিয়ার চিকিৎসায় সাফল্যের হার সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মতো হয়ে থাকে। তবে স্ত্রীর বয়স কম হলে এবং পর্যাপ্ত ভ্রূণ (২-৩ বার ট্রান্সফার করার মতো) পাওয়া গেলে এই সাফল্যের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঢাকা ফার্টিলিটি সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী পরামর্শ দেন, বীর্য পরীক্ষায় শুক্রাণু নেই এমন ফলাফল দেখে হতাশ না হয়ে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়া সম্ভব।






