সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও সংক্ষেপ
- পুলিশের চাকরিতে মানসিক চাপ: গত সাড়ে সাত বছরে ৭৫ জন সদস্যের জীবনাবসান।
- সরকারি নির্দেশনা: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ সম্বোধনে নিষেধাজ্ঞা।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ: আন্দারমানিক নদীতে ৪০ ফুট লম্বা মৃত তিমি উদ্ধার, তীরে মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে ৮০ ও ৯০-এর দশকের নস্টালজিয়া বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের বর্তমান ছবিকে সেই সময়ের আদলে রূপ দিচ্ছেন। সেই সোনালি দিনগুলো হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপে অনেকেই বর্তমান সময়কে অভিশাপ দিচ্ছেন। তবে এআইয়ের এই প্রযুক্তি নতুন হলেও, অতীতকে মহিমান্বিত করার এই প্রবণতা মোটেও নতুন নয়।
স্মৃতিচারণকারীদের অনেকেরই দাবি, সেই সময় জীবন অনেক ভালো ছিল এবং বর্তমান প্রজন্ম কোনোভাবে অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে। তবে বর্তমান প্রজন্মের একজন হিসেবে অতীতকে এমন রঙিন চশমায় দেখার বিষয়টি বেশ বিস্ময়কর। নস্টালজিয়া মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি হলেও, একটি কাল্পনিক স্বর্ণযুগ থেকে হঠাৎ সবকিছু খারাপ হয়ে গেছে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
২০২৬ সালের এই পৃথিবী কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ফসল। ৮০-এর দশক ৯০-এর দশককে, ৯০-এর দশক ২০০০-এর দশককে এবং ২০০০-এর দশক ২০১০-এর দশককে গড়ে দিয়েছে। আজ আমরা যে সমাজে বাস করছি, তা এই দীর্ঘ সময়ের বিবর্তনের ফল।
এখানেই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসে—আজকের দেশ কারা চালাচ্ছেন? বর্তমানের নীতিনির্ধারক, আমলা, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাদের বড় একটি অংশ সেই কথিত গৌরবময় ৮০ ও ৯০-এর দশকে বেড়ে উঠেছেন। যে সমাজ ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে আজ আমরা অভিযোগ করি, সেগুলো গড়ে তোলার পেছনে তাদেরই দীর্ঘদিনের শ্রম ও ভূমিকা রয়েছে।
যদি সেই সময়টি সত্যিই এত চমৎকার হয়ে থাকে, তবে প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ, নাগরিক সংস্কৃতি, জবাবদিহি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের বর্তমান করুণ দশা কেন? তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে নিকৃষ্ট বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই, কারণ এই সমাজ ও উত্তরাধিকার তাদের হাতেই তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন নিয়ে গভীর একাডেমিক গবেষণার অভাব রয়েছে। ২০১০-এর দশক পর্যন্ত জনপরিসর মূলত নগরভিত্তিক অভিজাত শ্রেণি ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তারা সমাজের কেবল সেই অংশটুকুই তুলে ধরতেন, যা তাদের কাছে সম্মানজনক মনে হতো।
উদাহরণস্বরূপ, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য মূলধারায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেলেও কাসেম বিন আবু বকরের বইয়ের বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল ঢাকাকেন্দ্রিক অভিজাতদের দৃষ্টির আড়ালে। প্রযুক্তি এখন সেই নিয়ন্ত্রণের দেয়াল ভেঙে দিয়েছে। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে হিরো আলম বা প্রিন্স মামুনের মতো ব্যক্তিরা মূলধারার গণমাধ্যমের অনুমতি ছাড়াই বিপুল দর্শক-শ্রোতা তৈরি করতে পারছেন।
যখন এই নতুন ধারার মানুষরা মূলধারার অভিজাতদের ছাপিয়ে যান, তখন তথাকথিত সুরুচির রক্ষকেরা ‘নান্দনিক রুচির দুর্ভিক্ষ’ নিয়ে আক্ষেপ করেন। অথচ সমাজ হয়তো হঠাৎ রসাতলে যাচ্ছে না; বরং যা আগে আড়ালে ছিল, প্রযুক্তি এখন তা সামনে নিয়ে আসছে।
পরিশেষে, ৮০ ও ৯০-এর দশকের নস্টালজিয়ার সমস্যা হলো, আমরা কেবল ভালো লাগা অংশগুলোই মনে রাখি। বর্তমানের সংকটগুলো বুঝতে হলে সেই গৌরবময় দশকগুলোতে বেড়ে ওঠা নীতিনির্ধারকদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত—আপনারা যে সমাজ গড়ে তুলেছেন, তার অবস্থা এমন কেন? চাকরির আরও তথ্য: পুলিশের চাকরিতে বাড়ছে মানসিক চাপ, সাড়ে ৭ বছরে ৭৫ জনের আত্মহত্যা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আয় গোপনে জরিমানা হওয়া উচিত প্রমাণসাপেক্ষে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ৮০ ও ৯০-এর দশকের স্মৃতিচারণকারীদের পোস্টে ভরে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা সবাই জীবনের কিছু সময়, বিশেষ করে শৈশব ও কৈশোরকে রোমান্টিকভাবে স্মরণ করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে আমরা ‘সমাজ’ বলতে যা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম, তা প্রায়ই ছিল সমাজের সেই সম্মানজনক অংশটুকুই, যেটিকে ওই নিয়ন্ত্রকেরা জনসমক্ষে আসার যোগ্য বলে মনে করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেসব বিষয়কে আমরা এখন ‘অশ্লীল’, ‘রুচিহীন’ বা ‘অপসংস্কৃতি’ বলি, সেগুলো আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সৃষ্টি করেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হুমায়ূন আহমেদ বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তিনি মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক রুচির একটি পরিশীলিত ও সহজবোধ্য রূপ তুলে ধরেছিলেন এবং টেলিভিশন ও সাহিত্যের মাধ্যমে সফলভাবে মূলধারায় প্রবেশ করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পার্থক্য ছিল, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের প্রভাবশালী মহল তাকে একই ধরনের মূলধারার মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য মনে করেনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুরান ঢাকার জানালা: কবাট খুললেই আসে যে গল্প।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাগরিকত্ব প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের প্রতিক্রিয়া কী বার্তা দেয়।






