বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) জীবনবীমা গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো বীমাগ্রহীতা বা তার নমিনিকে বীমাদাবির টাকা পাওয়ার বিনিময়ে নতুন কোনো পলিসি কিনতে বাধ্য করা যাবে না। পাশাপাশি, পাওনা টাকা থেকে নতুন পলিসির প্রিমিয়াম কেটে রাখার মতো অনৈতিক চর্চাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সম্প্রতি কিছু জীবনবীমা কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ বীমাদাবি, মৃত্যুদাবি ও সারভাইভাল বেনিফিটের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে একই কোম্পানির নতুন পলিসি নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিচ্ছিল। কোথাও কোথাও গ্রাহকের পাওনা থেকে জোরপূর্বক প্রিমিয়ামের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছিল। আইডিআরএ-এর লাইফ অনুবিভাগের অ্যাকচুয়ারিয়াল শাখা থেকে অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে বীমাদাবি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নিয়ম উপেক্ষা করে গ্রাহককে নতুন পলিসি নিতে বাধ্য করা বা প্রিমিয়াম সমন্বয় করা আইনত দণ্ডনীয় ও বীমা খাতের জন্য ক্ষতিকর।
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী জীবনবীমা কোম্পানিগুলোকে দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে নিচে উল্লেখিত পদ্ধতিসমূহ বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে
- বীমাদাবি পরিশোধের সময় পাওনা সমুদয় অর্থ বীমাগ্রহীতা বা নমিনির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এককালীন জমা করতে হবে; এক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব ছাড়া অন্য কোনো ফি বা চার্জ কাটা যাবে না।
- মেয়াদোত্তীর্ণ বীমাদাবির অর্থ ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করে ৯১ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে দেওয়া হলে, অর্থ পরিশোধের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বীমাগ্রহীতার নামে একই কোম্পানি নতুন কোনো পলিসি ইস্যু করতে পারবে না।
- যদি বীমাদাবির অর্থ ১২০ দিন বা তার বেশি সময় পর পরিশোধ করা হয়, তবে অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে একই গ্রাহকের অনুকূলে নতুন কোনো পলিসি ইস্যু করা নিষিদ্ধ।
- আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে যথাযথভাবে বীমাদাবি পরিশোধ করা হলে, গ্রাহকের জন্য নতুন পলিসি ইস্যু করতে কোনো বাধা থাকবে না।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মতে, এ ধরণের অনৈতিক চর্চা বীমা শিল্পের প্রতি গ্রাহকদের আস্থাহীনতা তৈরি করছে এবং তাদের স্বার্থ চরমভাবে বিঘ্নিত করছে। এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে বীমা খাত সংশ্লিষ্ট অনিয়ম অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।





