শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ স্লোগানের পাশাপাশি মনে রাখতে হবে যে রাষ্ট্র সবার। তিনি স্পষ্ট করেন, নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের এই অধিকার রাষ্ট্র ও সংবিধান থেকে পাওয়া। তাই সংবিধান প্রদত্ত সেই অধিকার সুরক্ষায় প্রতিটি নাগরিককে সবসময় সোচ্চার থাকতে হবে। এই সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে সেটা রক্ষা করতে হবে।’’। আমাদের সাহিত্য, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শিল্প সবকিছুর মধ্যে এই অভূতপূর্ব সম্মিলনের সম্প্রীতি নিদর্শন আপনারা সবসময় পাবেন।’’।
দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুগ যুগ ধরে এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এই মেলবন্ধনের অটুট ছাপ রয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন, সেই আদর্শ রক্ষায় রাষ্ট্র যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৭১-এ একসঙ্গে যেমন আমরা কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম এবং একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলেছিলাম, আমরা সেখানেই স্থির আছি এবং সেটাকে রক্ষা করবার জন্য আমরা যে-কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত পর্যন্ত রয়েছি।’’। আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম জায়গায় যেতে চাইনি, চাইও না।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে যারা বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয় এবং কখনো চরমপন্থার পথে যেতে চায়নি। দেশে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে যে প্রচারণা চালানো হয়, তা ভিত্তিহীন। সব ধর্মের মানুষ যে নিজ নিজ আচার-অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন, বাংলাদেশের জনপদ তা বারবার প্রমাণ করেছে। এ সময় এই সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে যারা বিভিন্নভাবে বিভাজন সৃষ্টি করে সুবিধা নিতে চায়, তাদের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি সতর্কতা থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার আগে থেকেই এই দেশে আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি।
দেশ বর্তমানে একটি রূপান্তরকালীন বা ট্রানজিশনাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে সবাইকে ধৈর্যের সাথে এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় সংকট নিরসনে পারস্পরিক সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচন সর্বজনগৃহীত হয়েছে। এছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানের আগে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ বক্তব্য রাখেন।






