নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও ধলেশ্বরী নদীর তীরে ইটভাটার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে এই উত্তেজনার জেরে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আহত আকবর নগরের শামসুল (৩২) ও মধ্যনগরের সৌরভসহ (২৮) অন্তত ১০ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ ‘রাজনৈতিক অপপ্রচারের শিকার’: শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে জড়িয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কর্মী ছামেদ আলী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের অনুসারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ ও মাটি বিক্রির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। পর্তুগাল দল ছেড়ে যাওয়ার খেসারত, সাময়িক নিষিদ্ধ রোনালদো। নগর ভবনে অভিযান / খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে এবার খুলনায় বদলি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকবরনগরের পাশের গ্রাম চরবক্তাবলীতে ইউনিয়ন কৃষকদলের একটি সভা শেষে ফেরার পথে হালিম আজাদের অনুসারীরা মহড়া দিলে ছামেদ আলীর পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর ছামেদ আলীর ছোট ছেলে মো. হৃদয় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় ছামেদ আলীর ছোট ছেলে মো. হৃদয় (২৬) গুলিবিদ্ধ হন। একই হাসপাতালে বক্তাবলীর আলাউদ্দিন শেখের ছেলে রাজু শেখ (৩০) পায়ে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হন।
আহতদের বিস্তারিত পরিস্থিতি নিচে দেওয়া হলো ‘তেলাপোকা’ ঠেকাতে দিল্লি হলো ‘লালকিল্লা’, ভারত হলো ‘কাশ্মীর’।
- হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাজু শেখ নামের এক ব্যক্তি পায়ে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হন; তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- আকবর নগরের বাসিন্দা শামসুল এবং মধ্যনগরের সৌরভসহ অন্তত ১০ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
- সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে ছামেদ আলীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
বিএনপি নেতা হালিম আজাদ দাবি করেন, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কৃষকদলের কর্মসূচি শেষে ফেরার সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তিনি ছামেদ আলীকে হত্যা মামলার আসামি ও চাঁদাবাজ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার। অন্যদিকে আহত হৃদয় অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে হালিম আজাদের লোকজন হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করেছে। ছামেদ আলী দাবি করেন, আগস্টের পর তার ব্যবসা ও সম্পদ দখলের চেষ্টা চলছে। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হালিম আজাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকেও উভয় পক্ষের লোকজন এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শামীম হোসাইন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কিছু টেঁটা জব্দ করা হয়েছে। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





