রাঁচিতে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টি-টুয়েন্টি ম্যাচটি ছিল রেকর্ডের এক বড় আধার। ৩৮.৩ ওভারে দুই দল মিলে মোট ৫০১ রান তুলেছে, যা টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ২০২৩ সালের সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচ, যেখানে হয়েছিল ৫১৭ রান। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ টি-টুয়েন্টি সংগ্রহ। এর আগে ২০১৬ সালে লডারহিলে তারা ২৪৪ রান করেছিল, তবে সেই ম্যাচে ভারতকে ১ রানে হারতে হয়েছিল। শীর্ষে ২০২৫ সালে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে বুলগেরিয়ার ২১৪ রান। নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অভিষেকের ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক সাহিবজাদা।
২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়টি টি-টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার নজির। এই তালিকায় সবার উপরে আছে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৫৯ রান তাড়া করে জেতার ঘটনা। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ২৫০ বা তার চেয়ে বেশি রান করার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, উভয় দলই এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে চারবার করে। তালিকার শীর্ষে থাকা ভারত এটি করেছে সাতবার। টি-টুয়েন্টিতে ২৫০ বা তার বেশি রান তোলার হিসাবে যৌথভাবে দ্বিতীয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড।
ম্যাচটিতে শাই হোপের ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিনি ছেলেদের টি-টুয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জনসন চার্লস ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এছাড়া টি-টুয়েন্টিতে উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে দুটি সেঞ্চুরিই শাই হোপের দখলে। ছয় দিন আগে ওয়ানডেতে ১৬২ রানের ইনিংস খেলা হোপ ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিতে সেঞ্চুরির মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ের ব্যবধান গড়ে নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন।
উইকেটকিপারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ম্যাচটি ছিল অনন্য। ভারতের সঞ্জু স্যামসনের ৮২ এবং শাই হোপের অপরাজিত ১০২ রান মিলে মোট ১৮৪ রান এসেছে দুই উইকেটকিপারের ব্যাট থেকে। টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে কোনো ম্যাচে উইকেটকিপারদের সম্মিলিত সংগ্রাহের হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ; ২০২২ সালে বুলগেরিয়া ও সার্বিয়া ম্যাচে হয়েছিল ১৮৮ রান। তবে একই ম্যাচে দুই উইকেটকিপারের ৮০ বা তার বেশি রান করার ঘটনা এই প্রথম। এছাড়া হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের ১২০ রানের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টি-টুয়েন্টিতে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে। এক ম্যাচে অন্তত ২০ ছক্কা মারার ঘটনা ক্যারিবীয়দের জন্য এটি চতুর্থবার।
ম্যাচে বাউন্ডারি থেকেও এসেছে প্রচুর রান। দুই দল মিলে বাউন্ডারি থেকে মোট ৩৮২ রান তুলেছে, যা টি-টুয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাই বাউন্ডারি থেকে সংগ্রহ করেছে ২০৪ রান, যা তাদের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ এবং রান তাড়া করা কোনো দলের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের বিপক্ষে ২০টি ছক্কা মেরেছে, যা ভারতের বিপক্ষে কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
বোলারদের জন্য দিনটি ছিল দুঃস্বপ্নের। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনাররা গড়ে প্রতি ওভারে ১৪.৬৪ রান দিয়েছেন, যা অন্তত ১০ ওভার বল করা বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ড। ভারতের বাঁহাতি স্পিনাররা ৭.৩ ওভারে ১১৬ রান দিয়ে ওভারপ্রতি ১৫.৪৬ রান খরচ করেছেন। সব মিলিয়ে ৩৩টি ছক্কা ও ৫০১ রানের এই ম্যাচে রেকর্ড বইয়ের অনেক পাতাই নতুন করে লিখতে হয়েছে।






