মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল সামরিক পরিস্থিতির আলোকেই সৌদি আরবে পাকিস্তানি সৈন্যদের অবস্থানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদের সামরিক বিভাগ। প্রধানত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের উপর্যুপরি হামলা মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঝুঁকি দূর করার লক্ষ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের অংশীদারিত্বে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ দ্রুত বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিয়াদের জরুরি বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে জানা গেছে যে, গত ৫ অক্টোবর সোমবার রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে তিন দেশের যৌথ সামরিক শক্তিকে অবিলম্বে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে মোতায়েন করার বিষয়ে একমত হন নীতিনির্ধারকেরা। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রতিরক্ষায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যৌথ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে রিয়াদে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তিন দেশের যৌথ সামরিক সক্ষমতা অবিলম্বে সৌদি আরবে মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কূটনৈতিক চুক্তি ও সেনাসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, পাকিস্তানি সামরিক সদস্যরা মূলত কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন সামর্থ্য নিয়ে সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৭ আগস্ট তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই বিশেষ চুক্তিটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতারই ফল।
- সৌদি সীমান্ত পাহারা দিতে এবং ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রুখতে পাকিস্তান থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার সৈন্য পাঠানো হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
- রয়টার্সের এই সেনা মোতায়েনের পরিসংখ্যানকে পুরোপুরি অনুমাননির্ভর বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
- ইসলামাবাদ পরিষ্কার করেছে যে, হুতি বিদ্রোহীদের হামলা প্রতিরোধের প্রস্তুতি থাকলেও ইয়েমেনের সীমানার ভেতরে সরাসরি কোনো পাকিস্তানি সৈন্য পাঠানো হবে না।






