কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নেপথ্যের দুটি কারণ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। অপ্রতিমের মা মনে করছেন, গত শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার আগে তার বাবার প্রতিষ্ঠানে এক কিশোরের চাকরি নেওয়া এবং তার সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কিশোর অপরাধীদের পুলিশে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও শোকমিছিলে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নাহার অপ্রতিমের মায়ের সন্দেহের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, হত্যার শিকার হওয়ার প্রায় ১০ দিন আগে সালমানপুর এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিয়েছিল। এই কিশোরের নিয়োগ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মধ্যে কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তিনি আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এর পাশাপাশি, নাহিদা বেগম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় কিছু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিত। এই ঘটনার জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে কি না, তাও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তদন্তাধীন বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বয়স নিয়েও অপ্রতিমের মা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মামলায় আটক দুজনের বয়স অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের প্রকৃত বয়স যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও এই সংক্রান্ত আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউট্যাব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি জানান, অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে পুলিশ প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন বলেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একক কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি উদ্বেগের প্রতিফলন। প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অপ্রতিমের পরিবার একা নয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, অপ্রতিম আমাদের সন্তান এবং এই মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশ থেকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নির্মূল করতে হবে। শোকমিছিল ও মানববন্ধনে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির সদস্যসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হল প্রভোস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও তিনি কয়েকটি সন্দেহের কথা এখানে জানাতে বলেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে আইফোন, ৫ হাজার টাকার পাওনা ও ‘অসম বন্ধুত্ব’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘আমার তো সব শেষ হয়ে গেল, এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর পক্ষ হয়ে সেগুলোই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বয়সসংক্রান্ত বিষয়টি নিশ্চিত করার কথাও তিনি বলেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দেশের আরও অনেক অপ্রতিমের জন্য এভাবে কথা বলার কেউ নেই।






