খবরের আপডেট
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিট: দর্শকের কাঁধে চড়া দামের বোঝা
- সুদানে ব্যস্ত বাজারে সামরিক ড্রোন হামলা, নিহত শতাধিক
- বসের কাছে বেতন বাড়ানোর কথা বলবেন কীভাবে?
কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানী এলাকায় নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ২৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোস্তফা সিকদারের বাড়ির উঠানে খননকাজ চলাকালে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং দ্রুতই তা অগ্নিকাণ্ডের রূপ নেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ দল আপাতত আগুন নেভানোর পরিবর্তে তা জ্বলতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্লেষণ / নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট: লৌহ মুষ্টির এপিঠ-ওপিঠ। ব্যবসা মন্দায় বন্ধ কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, সংকটে পুরোনো শপিং মলগুলো। উখিয়ায় ২৬ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ২০০ মিটার ঘিরে রাখার পরামর্শ। ফলে উচ্চচাপের গ্যাস বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকে।’। আরহাম বলেন, ভূগর্ভের অতি সূক্ষ্ম ফাটল বা ফাটলপথ দিয়ে গ্যাস কয়েক দিন ধরে ধীরে ধীরে ভূপৃষ্ঠের দিকে উঠে এসে শেষ পর্যন্ত নলকূপের গর্ত দিয়ে বের হওয়ার পথ পেয়ে থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূগর্ভে গ্যাসের অস্বাভাবিক চাপের কারণে এখনই আগুন নেভানো ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের আশঙ্কা, আগুন নিভিয়ে ফেললে গ্যাস ভূগর্ভের অন্যান্য ফাটল দিয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বড় ধরণের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, বিপদ এড়াতে আশপাশের মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া জরুরি। মোরশেদ জানান, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাপেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননের সময় গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় উচ্চচাপে গ্যাস বেরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা, প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসসমৃদ্ধ একটি স্তরের ওপরের অংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল খননকাজ। ওই স্তরের কিছু অংশ খুলে যাওয়ায় চাপের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে।
এটি কোনো গ্যাসকূপের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহের মতোই। গ্যাসীয় পদার্থের উপাদান নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আপাতত গ্যাসের প্রবাহ ও চাপ না কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয় বলে মনে করছেন তারা। এতে গ্যাসের উপাদান ও বৈশিষ্ট্য জানা যাবে।
ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার বিষয়ে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, বাপেক্সের পরামর্শ অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডস্থলের চারপাশে অন্তত ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও ভাবা হচ্ছে, কারণ পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বসতবাড়ি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগুনের উৎসস্থলের চারপাশে অন্তত ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধের পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এবং গ্যাসের চাপ প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চিতে পাউন্ড) থাকায় তাদের চারটি ইউনিট সরাসরি আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি, কিন্তু আগুন নেভাতে পারিনি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গ্যাস প্রবাহের মাত্রা অনুযায়ী আগুন সাত থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত জ্বলতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে একটি ইউনিট মোতায়েন রেখেছে।
উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে। এছাড়াও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জাপানের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে। সুদানে একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে।






