সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
- এনআইডি সংশোধন: ১ লাখ ১৭ হাজার আবেদন পেন্ডিং।
- চলতি বছর খুলনায় ১০ মাসে ৭১ জনের প্রাণহানি।
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ নির্দেশনা।
- সাম্প্রতিক সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টায় তিনবার গুলির ঘটনা, আহত যুবদল নেতা।
খুলনায় অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭১ জনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এ সময়কালে মোট ৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি চার দিনে গড়ে অন্তত একটি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষণ / নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট: লৌহ মুষ্টির এপিঠ-ওপিঠ। টস জিতে ব্যাটিং নিল বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) আওতাধীন ৮ থানায় ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছে। জেলা পুলিশের আওতাধীন ৯ থানায় মামলা হয়েছে ৩৫টি। কেএমপির তথ্য অনুযায়ী, নগরে ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি, ২০২৪ সালে ২৯টি এবং ২০২৫ সালে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই মামলার সংখ্যা ৩৪। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৩৫টি। লবণচরায় ৭টি, দৌলতপুরে ৫টি, আড়ংঘাটায় ৪টি, হরিণটানা ও খালিশপুরে ৩টি করে এবং সোনাডাঙ্গা ও খানজাহান আলী থানায় দুটি করে মামলা হয়েছে। মহানগরের বাইরে রূপসায় সর্বোচ্চ ১২টি মামলা হয়েছে। প্রায় ১০০ গজ দূরত্বের মধ্যে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম (২৩) ও নাজমুল (১৮)। খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার। পুলিশের তথ্য মতে খুলনা নগর এবং জেলার বিভিন্ন জায়গায় বি-কোম্পানির প্রায় ৮ শতাধিক সদস্য রয়েছে যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) আওতাধীন এলাকায় ৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৩৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৩টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা পুলিশের অভিযানে ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে ১৮টি মামলায় ৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ আগ্নেয়াস্ত্র ভারতের তৈরি বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও তার আগের রাতে বটিয়াঘাটায় পৃথক ঘটনায় গুলি করা হয় দুই যুবদল নেতাকে। এছাড়া, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে গুলি করে ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চললেও গুলি, হত্যা ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা থামছে না সেখানে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, নগরজুড়ে এখনো কয়েকশ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ছড়িয়ে আছে। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই অধিকাংশ সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে বি-কোম্পানি, নূর আজিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী ও টেংকি শাওন গ্রুপের মতো একাধিক অপরাধী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর অনেক সদস্য মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ব্যবসা মন্দায় বন্ধ কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, সংকটে পুরোনো শপিং মলগুলো। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মাদক কারবার ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সহিংস রূপ সামনে আসে। অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, সাধারণ মানুষও এসব সংঘাতের শিকার হচ্ছেন। জমি, মাছের ঘের, বালুর ব্যবসা, পরিবহন ও ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কোথাও কোথাও বিরোধ তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯ আগস্ট লবণচরা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যাকাণ্ড দুটির মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া গত ২২ অক্টোবর ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে তাওহিদুল ইসলাম ও খুশি আক্তার নামের দুজন নিহত হন। একইদিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়ায় বাড়ির কাছে গুলিতে নিহত হন গৃহবধূ খুশি আক্তার।
শুধুমাত্র হত্যাকাণ্ড নয়, ছিনতাই ও ভয় দেখানোর কাজেও অস্ত্র ব্যবহারের হার বেড়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর পশ্চিম টুটপাড়া এবং ২৪ অক্টোবর গাছতলা এলাকায় গুলির ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে রাখা হচ্ছে। এমনকি মসজিদের ভেতরে ঢুকে গুলির মতো ঘটনাও ঘটছে। খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩ গুলির ঘটনা, এবার যুবদলের আরেক নেতা আহত।
খুলনা জেলা বিশেষ শাখার (এসবি) পুলিশ সুপারের সই করা চিঠিতে পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি দাপ্তরিক পদক্ষেপ।
কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান জানান, প্রতিটি ঘটনার কারণ ভিন্ন।
কোথাও চাঁদাবাজি, আবার কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ বা মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ নন্দী মনে করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও মাদক কারবার বন্ধ না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।






