নাটোরের বড়াইগ্রামে বিআরটিসি কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণ এবং বাসে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকাল মিলিয়ে বনপাড়া বাইপাস এলাকায় এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি বাস কাউন্টার, একটি চায়ের দোকান এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিরা জেলা বিএনপির সদস্য লুৎফর রহমান এবং বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম ইকবাল হোসেন রাজুর অনুসারী।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, যখন বনপাড়া বাইপাস এলাকায় বিআরটিসি ও গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের শ্রমিকদের মধ্যে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে বিআরটিসি কাউন্টার ভাঙচুর করা হয়। এতে কাউন্টার মাস্টার নয়ন হোসেন (৩৫) এবং বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আলী ফকির (৫৬) আহত হন। এই ঘটনার রেশ ধরে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোসেন আলীর অনুসারীরা কালিকাপুরের সিয়াম হোসেনকে (৩৬) মারধর করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিকাপুর ও বনপাড়া সরদারপাড়া এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা হামলা চালায়। এতে বনপাড়া পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আকতার হোসেন (৫২), ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল ইসলাম মৃধা (৫৫) এবং পৌর কৃষক দলের সভাপতি মমতাজউদ্দিন শেখ (৫৪) সহ আরও সাতজন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে বিকেলে জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ভিপি সানোয়ার হোসেন তুষার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকায় র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






