ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় অবস্থিত পুলিশ লাইন্সের ভেতরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের ফলে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পাশের দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বুধবার পরীক্ষা থাকায় উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছিল। শুরুতে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ জানালেও পরে আবারও উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয় এবং শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই রাত সাড়ে ১২টার দিকে জামিয়া দারুণ আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। এই বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও পাওয়া গেছে।
বৈঠকে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—পুলিশ লাইন্সে ভবিষ্যতে কোনো গানের অনুষ্ঠান না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ও নির্দেশদাতাদের বরখাস্ত ও শাস্তির আওতায় আনা, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পুলিশ সুপারের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা। এসব দাবি পূরণে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটামের বিষয়ে পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ জানান, এটি মূলত দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে আর্থিক সহায়তা ও উন্নত চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে এসপি উল্লেখ করেন।
তবে বুধবার সকাল ১০টার আল্টিমেটামের সময় পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধির মন্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।






