মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণের পর বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একজন সাধারণ নারীর মতোই শারীরিক ও মানসিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে সম্প্রতি নিজের শারীরিক গড়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হন এই অভিনেত্রী। যদিও তিনি দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে নিশ্চুপ ছিলেন, কিন্তু তার ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীরা শুরু থেকেই এই সমালোচনার জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। অবশেষে যুক্তরাজ্যে নিজের কসমেটিকস ব্র্যান্ডের প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ক্যাটরিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক চর্চা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ক্যাটরিনা বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য মতামত ভেসে বেড়ায়। এগুলোর প্রতিটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে মানুষের নিজের আত্মমর্যাদা ও মূল্যবোধ প্রভাবিত হতে পারে। ক্যাটরিনার মতে, মানুষের প্রতিটি মন্তব্যকে ‘আদেশ’ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ, সমালোচনার প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকলে একসময় মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং স্থবির হয়ে পড়ে। জীবনের প্রতিটি ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পথে এই মানসিক চাপ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন তিনি।
নিজের অনুভূতির পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে এই অভিনেত্রী বলেন, আত্মবিশ্বাস বা নিজেকে নিয়ে ধারণা সবসময় একই রকম থাকে না। জীবনের উত্থান-পতনকে সহজভাবে মেনে নেওয়াই হলো প্রকৃত আত্ম-উন্নয়নের পথ। নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে পরিস্থিতির পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারলেই নিজের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি হয়। তিনি আরও যোগ করেন, নিজের প্রকৃত সত্তার প্রতি অবিচল থাকাই এখন তার মূল লক্ষ্য।
দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেওয়া ক্যাটরিনা কাইফ গত বছরের সেপ্টেম্বরে মা হতে যাওয়ার খবর জানান এবং নভেম্বরে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এরপর থেকেই তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। গত আট বছরে তার অভিনীত মাত্র পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এবং ২০২৪ সালে তার শেষ সিনেমাটি মুক্তি পায়। রুপালি পর্দা থেকে দীর্ঘ বিরতিতে থাকা এই অভিনেত্রী এখনো অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।


