প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন শাহরুখ খান। তিনি নানা পাটেকরকে কেবল একজন সহশিল্পী হিসেবে নয়, বরং নিজের শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও সমালোচক হিসেবে অভিহিত করেছেন। শাহরুখের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে নানার সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের সেই মুহূর্ত, যখন শাহরুখ নিজের চুল সাজানো নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তখন নানা তার হাত সরিয়ে দিয়ে সরাসরি বলেছিলেন, ‘হিরোর মতো চুল সাজিও না, তুমি অভিনেতা।’ অভিনয়জীবনে নানার কাছ থেকে পাওয়া কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় কথাগুলোও স্মরণ করেছেন তিনি।
শাহরুখ জানান, নানার মতো সত্যবাদী মানুষ খুব কমই দেখা যায়। তিনি কখনোই অন্যের পছন্দমতো কথা বলতেন না, বরং যেটি শোনা জরুরি সেটিই বলতেন। কাজের বাইরে তাদের ক্যারাম খেলার মজার স্মৃতির কথাও তিনি তুলে ধরেন, যেখানে নানা তাকে ও অন্যদের হারিয়ে জয়ের আনন্দ উপভোগ করতেন। তার ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি ছিল অনন্য; অনেক সময় বকাঝকা বা অপমান করার আড়ালে তিনি স্নেহ ও ভালোবাসা লুকিয়ে রাখতেন, যা বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগত। শাহরুখ বলেন, “তিনি প্রথমে তোমাকে বকাঝকা করতেন, এরপর তৃতীয় বা চতুর্থবার অপমান করার মাঝেই বুঝতে পারতে, আসলে তিনি তোমাকে জড়িয়ে ধরছেন। তিনি আমাকে ভালোবাসতেন, আমিও তাকে ভালোবাসতাম। ”। নানার চরিত্র ছিল নরসিমহা, আর শাহরুখ বিশেষ উপস্থিতিতে জয় সিং চরিত্রে অভিনয় করেন। নানার সঙ্গে আরো অনেক সময় গল্প করা, তর্ক করা, চা খাওয়া ও ক্যারম খেলার সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেছেন শাহরুখ।
১৯৯২ সালের ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ এবং ২০০২ সালের ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ সিনেমায় নানা ও শাহরুখের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও, তাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের অভাব অনুভব করছেন শাহরুখ। নিজের বার্তার শেষ দিকে তিনি লিখেছেন, ‘খুব তাড়াতাড়িই চলে গেলে, আমার নায়ক অভিনেতা! শান্তিতে থেকো।’ নানার তীব্রতা, পাগলামি ও হাসিমাখা মুখ সবসময় তাদের হৃদয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে, ওই সিনেমায় তাদের একসঙ্গে কোনো দৃশ্য ছিল না। তার মৃত্যু শুধু সিনেমার জগতেই নয়, ভারত ও বিশ্বের মানুষের হৃদয়েও বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। তার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের একটি নির্ধারিত অনুষ্ঠান শ্রদ্ধা স্বরূপ স্থগিত করা হয়েছে। চিকিৎসক শেখর সালকারের ভাষ্যমতে, রাত আড়াইটার দিকে নানা তার এক বন্ধুকে বুকে ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন। ভোর ৪টার দিকে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তিনি ঘামছিলেন এবং অচেতন হয়ে পড়ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস এন্ডে জিবি রিয়েলটির আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সালমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
জরুরি অ্যাম্বুলেন্স আসার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং সেখানে পৌঁছানোর পরও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। মণিপাল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিপিআর ও হৃদ্যন্ত্র সচল করার বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসা চালিয়েছিলেন। কিন্তু ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নানা পাটেকর মারা গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ‘আঙ্কুশ’, ‘পরিন্দা’, ‘অঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অ্যাব তাক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’, ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মহারাষ্ট্র সরকার তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছে। পুনের কাছে দোঞ্জেতে তার নিজের খামারবাড়িতে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।


