খবরের মূল অংশ
- ঘটনার প্রেক্ষাপট: সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধকরণ।
- আইনি পরিস্থিতি: ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
- বর্তমান অবস্থা: অন্তত পাঁচটি গ্রামের কৃষকেরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
- গ্রেপ্তার: মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজন গ্রেপ্তার, যারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
- কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস ও স্থানীয় পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অন্তত পাঁচটি গ্রামের কৃষকেরা এখন গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে দিশেহারা। সারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার পর থেকে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। এই মাসের শুরুতে সারের দাবিতে বিক্ষোভের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ওই মামলাটি করা হয়। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার হলেও আট দিন কারাবাসের পর তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে অনেক কৃষকই এখনো রাতে ঘরে থাকার সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়রা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গোনাইয়ের কুটি গ্রামে সার ডিলার আমজাদ হোসেনের দোকানের বাইরে সার সংকটের প্রতিবাদে শত শত কৃষক জড়ো হন। কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধান চাষের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় তারা মাত্র পাঁচ থেকে সাত কেজি করে সার পাচ্ছিলেন। অনেকে বারবার চেষ্টা করেও সার পাননি, সেই সঙ্গে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে গেলে তাকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি উদ্ধার হন এবং পরদিন ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্যমতে, পুলিশের ভয়ে তারা এখন রাতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে ঘুমাচ্ছেন। গোনাইয়ের কুটি গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, পুলিশের ভয়ের কারণে অনেকেই কাজ ফেলে পালিয়ে যাচ্ছেন। একই গ্রামের শিউলি বেগম জানান, তার স্বামী সুলতান মোল্লা ৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িতে নেই। মামলার আসামি হওয়ায় ভয়ে তিনি জমিতে আমন ধান ও সবজি চাষের পরিচর্যা করতে পারছেন না, এছাড়া আর্থিক সংকটে আগাম জামিন নেওয়ার অবস্থাও নেই তাদের। আরেক কৃষক কলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তার ভাই আবদুস সালাম মামলার আসামি হওয়ায় বাড়িছাড়া, তিনিও পুলিশের অভিযানের ভয়ে রাতে নিজের ঘরে থাকছেন না।
জেল খেটে ফিরে আসা কৃষক আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া জানান, কারাবাসের সেই কঠিন অভিজ্ঞতা তারা ভুলতে পারছেন না। আল আমিনের স্ত্রী রওশন আরা জানান, স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, কৃষকদের ওপর এই বাড়তি ভোগান্তি কাম্য নয়।
তবে ভিন্ন মত জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, বিক্ষোভের সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বড় ধরনের অভিযানের কথা অস্বীকার করে বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে না, ভিডিও ফুটেজ দেখে কেবল দোষীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃতা দেবনাথ জানান, কৃষকরা বাড়ি ছেড়েছেন এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নিশ্চিত করেছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জেলা প্রশাসন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে, যারা নিরপরাধ তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কারণে মাঠে আমন ধান ও শীতকালীন সবজির খেতে ঠিকমতো পরিচর্যা করাও সম্ভব হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাঁশ ও আবর্জনায় আগুন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত শুক্রবার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কিত দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গোনাইয়ের কুটি গ্রামে খেতে কাজ করা কয়েকজন কৃষক প্রথমে কথা বলতেই রাজি হননি; সাংবাদিককে তারা সাদাপোশাকের পুলিশ বলে ভুল করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৫৫ বছর বয়সী কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আপনারা থানা থেকে এসেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি দরপত্রে কম অভিজ্ঞতা ও মূলধনেও অংশ নেওয়া যাবে।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ করায় চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ।






