গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রেসক্রিপশন ছাড়া হৃদরোগের ওষুধ দিতে রাজি না হওয়ায় এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আতিকুল ইসলামের অভিযোগ, তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে এবং তার কাছে থাকা ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন স্থানীয় যুবদল নেতা মো. ফজলুল হক রোমান, যিনি এলাকায় ‘ভাইরাস রোমান’ নামেও পরিচিত। তিনি জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য এবং মাওনা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে, যখন এক নারী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই আতিকুল ইসলামের ফার্মেসিতে হৃদরোগের ওষুধ কিনতে আসেন। প্রেসক্রিপশন না থাকায় আতিকুল ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফজলুল হক রোমানের ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে আতিকুলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার শর্তে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিকেল ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম জানান, আটকে রাখার সময় তাকে কয়েক দফায় মারধর করা হয়েছে। লোহার রডের আঘাতে তার দুই উরুতে গুরুতর জখম হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত রোমানের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময় হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, তার নির্দেশের পর অভিযুক্ত রোমানের ব্যবহৃত কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলুল হক রোমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফজলুল হক রোমান উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আলিম উদিনের ছেলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






