চট্টগ্রাম মহানগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাবার পানি পৌঁছে দিতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে। তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময় অর্থমন্ত্রী ছাড়াও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ুবিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই চুক্তির সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব, তবে একা সরকারের পক্ষে সব সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। বর্তমান অর্থনীতি মডেলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, শুধু পানি সরবরাহ নয়, বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা নিয়েও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের বর্তমান নাজুক অবস্থা তুলে ধরেন স্থানীয় প্রতিনিধি ইসরাফিল খসরু। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত একটি সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ওই এলাকাগুলোর মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কিনতে হয়, যার জন্য তাদের ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়।
সমীক্ষায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে, ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি অত্যন্ত লবণাক্ত। পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে পানির লবণাক্ততার মাত্রা ৩ হাজার পিপিএম, যেখানে জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএম। এই সংকট নিরসনে উদ্ভাবনী এই পাইলট প্রকল্পটি স্থানীয়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পানি সরবরাহ খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এই পুরো প্রক্রিয়ায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা সফল হলে তা নগরীর অন্যান্য প্রান্তিক এলাকাতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ||। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় একটি নতুন পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনগণের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের সরকার বদ্ধপরিকর, কিন্তু শুধু সরকার একা এটা করতে পারে না, এজন্য পার্টনারশিপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই মডেলে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি আমরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রী বলেন, “এখন অর্থনীতির সংজ্ঞাও বদলে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন আমরা লিমিটেড জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি।






