বয়স যে শিক্ষার পথে কোনো বাধা হতে পারে না, তা আবারও প্রমাণ করলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম। দীর্ঘ ২৭ বছর পর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৪ দশমিক ৪৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর জীবনের নানা ব্যস্ততায় তাঁর শিক্ষাজীবনে ছেদ পড়েছিল। তবে মনের কোণে থাকা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তিনি কখনো মুছে ফেলেননি। অবশেষে তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন। ২৭ বছর আগের কথা। ২৭ বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করে পরীক্ষায় পাস করা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। ১৩ বছর বয়সে বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা, ৫৩ বছর বয়সে গৃহবধূর এইচএসসি পাস। কিন্তু মনের ভেতরে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার ইচ্ছাটা বেঁচে ছিল। অবশেষে সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের মেডিক্যাল মোড় এলাকার তোরাব আলীর সন্তান। টানা তিন মেয়াদে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আমিনুল সংসার ও সামাজিক ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য অর্জনে অবিচল ছিলেন। এ বছর তিনি গাজীপুর মহানগরের পুবাইল কারিগরি কলেজ থেকে ড্রেস মেকিং ট্রেডে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষার ফলাফল জানার পর নিজের আনন্দ অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের বিরতি কাটিয়ে এই সাফল্য তাঁর কাছে অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। এখন তিনি ভবিষ্যতে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন।
এ বছর আমিনুলের পরিবারের জন্য এসেছে দ্বিগুণ আনন্দ। তাঁর স্ত্রী মোসা. হুসনে আরা এবং বড় ছেলে মো. স্বাধীন একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরিবারের তিন সদস্যের এমন সাফল্যে তাঁদের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা আমিনুলের এই অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর সহকর্মী ও মাওনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামীম মৃধা বলেন, আমিনুলের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, অদম্য ইচ্ছা ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামীম মৃধা বলেন, ‘খবরটি শুনে আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছি।
আমিনুলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা। তিনি জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া প্রশংসনীয়। ৪৭ বছর বয়সে আমিনুলের এই অর্জন সমাজের অন্যান্যদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমিনুলের এই গল্পটি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বয়স্ক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।






