শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা। পরিকল্পনার অর্থায়নের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে বাংলাদেশের নামমাত্র জিডিপি প্রায় ১১২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যার ৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা এই দুই খাতে ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সম্মিলিত বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় অনেক কম, যেখানে চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য কেবল বরাদ্দ বাড়ানো নয়, বরং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় জায়গায় বরাদ্দ না থাকা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে অনেক প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এবার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা খাতের সংস্কার ও লক্ষ্যমাত্রা
- শিখন দারিদ্র্য হ্রাস: ২০৩১ সালের মধ্যে শিখন দারিদ্র্য (১০ বছর বয়সের শিশুর সহজ লেখা পড়তে ও বুঝতে না পারা) ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশে নামিয়ে আনা।
- ঝরে পড়ার হার: মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।
- কারিগরি শিক্ষা: পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি কারিগরি বা বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করানো এবং কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশে উন্নীত করা।
- ডিজিটাল শিক্ষা: শিক্ষকদের ট্যাব প্রদান, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
- উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান: স্নাতক পর্যায়ে ইন্টার্নশিপ চালু, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিগ্রির সনদ জামানত রেখে বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা।
- বিনা মূল্যে শিক্ষা: এক বছরের মধ্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা।
শিক্ষা সংস্কারের কেন্দ্রে থাকবে কর্মসংস্থান। সরকার এমন একটি শিক্ষা নীতি প্রণয়নের কাজ করছে যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসনে দুই বছরের বিশেষ কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা: পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর এবং ৬৪ জেলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
- জনবল নিয়োগ: এক বছরের মধ্যে ২ হাজার ৩৯৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ৫২০ জন মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং পাঁচ বছরে মোট ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের লক্ষ্য।
- জরুরি সেবা: ১৬২৬৩ নম্বরের কল সেন্টার চালু, অ্যাম্বুলেন্স শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস ও কেমোথেরাপি সুবিধা নিশ্চিত করা।
- নগর স্বাস্থ্য: বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৭০টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন।
- সামাজিক সুরক্ষা: ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের অর্ধেক মানুষকে সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনা।
চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য মানুষকে যে পরিমাণ অর্থ নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয়, তা ২০৩১ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া খুলনায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ই-স্বাস্থ্য কার্ড ব্যবস্থার মূল্যায়ন করে তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিতুমীর বলেন, দেশের ঋণের চাপ থাকলেও নাগরিকদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই ব্যয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০টিতে উন্নীত করা, চিকিৎসক নিয়োগ এবং ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিবাসী ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি আটকে দিলেন আদালত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গু: জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে আক্রান্ত ২৭% বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায় এখন উৎপাদকদের, না করলে নিবন্ধন বাতিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ দুই খাত মিলিয়ে বছরে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই খাত মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ২ লাখ ৬ হাজার ১৫ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এই পাঁচ বছরের কাঠামো তৈরি করেছে।






