২৫ বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান: ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু ও কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি

প্রকাশ:
Print news

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে আল-কায়েদার ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে যে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, তার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে লাখো মানুষের জীবনে। আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে চালানো বিমান ও ড্রোন হামলায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৪৫ লাখ থেকে ৪৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে প্রায় নয় লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি রোগব্যাধি, অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে আরও ৩৬ লাখ থেকে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেবল প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তিন কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম’ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ। প্রায় ২০ বছর ধরে চলা এই সংঘাতে সরাসরি এক লাখ ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের আগে আফগানিস্তানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার হার ৬২ শতাংশ থাকলেও সংঘাতের পর তা ৯২ শতাংশে উন্নীত হয়। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পরও দেশটিতে অবিস্ফোরিত মাইন ও গোলাবারুদ বেসামরিক মানুষের জন্য বড় হুমকি হয়ে আছে।

ইরাকের পরিস্থিতির চিত্র আরও ভয়াবহ। ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ শুরু হওয়া আগ্রাসনের পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করা ওমর নামের এক ব্যক্তি জানান, বোমার শব্দ ও স্বজন হারানোর বেদনা আজও তাদের তাড়া করে ফেরে। যুদ্ধের দুই দশক পেরিয়ে গেলেও ইরাকে এখনো ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় চালানো ড্রোন ও বিমান হামলাও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটিয়েছে। ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০৪ সাল থেকে পাকিস্তানে ৪২৩টি মার্কিন হামলায় প্রায় আড়াই হাজার থেকে চার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। লিবিয়ায় ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের সময় ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনীর প্রায় ৯ হাজার ৭০০টি বিমান হামলা চালানো হয়।

২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ এক হাজার ৪১৭ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও, এয়ারওয়ার্সের মতো অলাভজনক সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা আট হাজার ২৬৪ থেকে ১৩ হাজার ৩৬০ জনের মধ্যে।

বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের জীবনের গল্পগুলো অত্যন্ত করুণ। ৪০ বছর বয়সী আয়েশা নামের এক আফগান নারী জানান, গত কয়েক দশকে তাকে বারবার দেশ ছাড়তে হয়েছে। ইরানে দীর্ঘ সময় আশ্রয়ে থাকার পর বহিষ্কৃত হয়ে তাকে আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ফিরে যেতে হয়েছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন সেনাদের ওপরও গভীর। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকারী আট লাখ মার্কিন সেনার মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার জন নিহত এবং ২০ হাজার আহত হয়েছেন। ইরাক যুদ্ধেও তিন হাজার ৪৮১ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। কস্ট অব ওয়ার প্রকল্পের পরিচালক স্টেফানি স্যাভেল জানান, যুদ্ধের ময়দানে নিহত সেনাসদস্যদের তুলনায় আত্মহত্যায় মারা যাওয়া সাবেক সেনাসদস্যের সংখ্যা চার গুণ বেশি। পিটিএসডি ও মানসিক আঘাতের কারণে অনেক সেনাসদস্য দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ভুগছেন।

অর্থনৈতিকভাবেও এই ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। গত দুই দশকে যুদ্ধ পরিচালনার পেছনে পাঁচ দশমিক আট ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর সঙ্গে সাবেক সেনাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বাবদ ২০৫০ সাল পর্যন্ত আরও দুই দশমিক দুই ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। সব মিলিয়ে যুদ্ধের মোট ব্যয় আট ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার দায়ভার এখনকার তরুণ প্রজন্মের ওপর বর্তাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ব‍্যাপক ঝুঁকি রয়েছে: টিআইবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যবসায়ীকে ‘হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে’ জিডি করতে যান বন্ধু মাসুম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই দিনে হারার শঙ্কা থেকে ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খালে পড়েছিল সুটকেস, ভেতরে নারীর মরদেহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘স্বৈরশাসক’ ডাকনাম নিয়ে মুখ খুললেন এমবাপে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি হামলার পর শুরু হয়েছিল যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’, ২৫ বছর পর তার হিসাব দাঁড়িয়েছে লাখো মৃত্যু, কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি আর অসংখ্য পরিবারের অপূরণীয় ক্ষত হিসেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ভাষায়, শুরু হয় ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর আফগানিস্তান, ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে একের পর এক সামরিক অভিযান চালানো হয়।

শেয়ার করুন
শিরোনাম :
নতুন মিউজিক ভিডিওতে ভিন্ন লুকে হাজির মডেল দেবজ্যোতি ঢাকা-১৭ আসনের মসজিদ ও মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান প্রদান ২৫ বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান: ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু ও কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কৌশল পরিবর্তনের পথে যুক্তরাষ্ট্র: কমতে পারে সেনা ও ঘাঁটির সংখ্যা ময়মনসিংহে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত, আহত চার নিজ সংস্কৃতি থেকে জাতি পিছিয়ে পড়েছে: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান আজকের খেলার সূচি: ক্রিকেট ও ইউরোপীয় ফুটবল দিল্লি ডাকলে জামায়াত আমির এতদিনে ভারত সফর করতেন: রাশেদ খাঁন আশির দশকের ফ্যাশন ফিরলেও সেই আত্মা নেই: রতি অগ্নিহোত্রী অ্যাজোস্পারমিয়া থাকলে কি বাবা হওয়া সম্ভব? জেনে নিন চিকিৎসা পদ্ধতি সিএমএইচে আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ড্রোন হামলার জেরে মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দর দুই দিনের জন্য বন্ধ এক ভিসায় ছয় দেশ ভ্রমণ: মধ্যপ্রাচ্যে চালু হচ্ছে শেনজেন আদলের জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে ফিরল প্রাণ, তবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ প্রেক্ষাপট: ৬৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি সম্মেলনে যোগ দিতে বার্বাডোস যাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরছে ঘরোয়া ফুটবলের আমেজ রাজনৈতিক ক্ষমতার চেয়ে আখিরাতের মুক্তিই বড় লক্ষ্য: এটিএম আজহারুল ইসলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ পদে নিয়োগ: প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ আবেদনের সুযোগ মুম্বাইয়ের বাড়িতে সেই হামলার পর জীবন নিয়ে নতুন উপলব্ধি সাইফ আলী খানের ওয়ালটনের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন সক্ষমতা দেখে অভিভূত সমাজকল্যাণমন্ত্রী নতুন মিউজিক ভিডিওতে ভিন্ন লুকে হাজির মডেল দেবজ্যোতি ঢাকা-১৭ আসনের মসজিদ ও মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান প্রদান ২৫ বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান: ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু ও কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কৌশল পরিবর্তনের পথে যুক্তরাষ্ট্র: কমতে পারে সেনা ও ঘাঁটির সংখ্যা ময়মনসিংহে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত, আহত চার নিজ সংস্কৃতি থেকে জাতি পিছিয়ে পড়েছে: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান আজকের খেলার সূচি: ক্রিকেট ও ইউরোপীয় ফুটবল দিল্লি ডাকলে জামায়াত আমির এতদিনে ভারত সফর করতেন: রাশেদ খাঁন আশির দশকের ফ্যাশন ফিরলেও সেই আত্মা নেই: রতি অগ্নিহোত্রী অ্যাজোস্পারমিয়া থাকলে কি বাবা হওয়া সম্ভব? জেনে নিন চিকিৎসা পদ্ধতি সিএমএইচে আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ড্রোন হামলার জেরে মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দর দুই দিনের জন্য বন্ধ এক ভিসায় ছয় দেশ ভ্রমণ: মধ্যপ্রাচ্যে চালু হচ্ছে শেনজেন আদলের জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে ফিরল প্রাণ, তবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ প্রেক্ষাপট: ৬৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি সম্মেলনে যোগ দিতে বার্বাডোস যাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরছে ঘরোয়া ফুটবলের আমেজ রাজনৈতিক ক্ষমতার চেয়ে আখিরাতের মুক্তিই বড় লক্ষ্য: এটিএম আজহারুল ইসলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ পদে নিয়োগ: প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ আবেদনের সুযোগ মুম্বাইয়ের বাড়িতে সেই হামলার পর জীবন নিয়ে নতুন উপলব্ধি সাইফ আলী খানের ওয়ালটনের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন সক্ষমতা দেখে অভিভূত সমাজকল্যাণমন্ত্রী