ময়মনসিংহ নগরে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের নাম মো. আশিকুর রহমান, যিনি নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে বিড়ালের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক সেবা দিয়ে থাকেন। চাঁদা হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে তা না পাওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান প্রতীককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মহানগর শাখার সভাপতি গোবিন্দ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী চিকিৎসক কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তালহাজুর রহমান প্রতীক, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আশিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তারা চেম্বারে ঢুকে চাঁদার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি প্রতিবাদ জানালে সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দোকানের কর্মী ঈশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে মারধর করছেন এবং ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান প্রতীক মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারছেন।
এই হামলার পেছনে চাঁদা দাবির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত বিরোধের কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। তিনি জানান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি নামের ওই নারী একটি বিড়ালের মৃত বাচ্চা প্রসবকে কেন্দ্র করে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এছাড়া ফেসবুকে অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে লেখালেখির পেছনে আশিকুরের হাত রয়েছে—এমন ভুল সন্দেহ থেকেও এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
অন্যদিকে, ঘটনায় জড়িত সাকিবুল হাসান ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি জানান, গত ১৭ আগস্ট একটি গর্ভবতী পারশিয়ান বিড়াল (নাম স্নো) সেঁজুতি চিকিৎসার জন্য কেওয়াটখালী ভেটেরিনারি ডাক্তার আব্দুল হান্নানের কাছে রেখে আসেন। ১৮ আগস্ট খোঁজ নিলে বিড়ালটি মারা গেছে বলে জানানো হয়। এ নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি হলে আশিকুর রহমান তার আইডি থেকে সেঁজুতিকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যার প্রমাণ থাকায় এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তারা এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন সাকিবুল।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, আশিকুর রহমানের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুলিশের কাছে অন্য কোনো পক্ষের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি ওসি নিশ্চিত করেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেখানে বিড়ালটি মারা গেলেও তারা কিছু জানায়নি।






