ঢাকায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের বার্ষিক ‘পার্টনার স্কুলস প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ২১০টিরও বেশি পার্টনার স্কুলের অধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। শিক্ষা খাতের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি স্কুলগুলোর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলপ্রধানদের নিবেদিত কাজের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এই আয়োজনের পরেও তাদের ইতিবাচক কাজের প্রভাব অব্যাহত থাকবে। আয়োজনে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট, পিয়ারসন এডেক্সেল এবং অক্সফোর্ডএকিউএর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনায় এই স্কুল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্কট ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আপনারা শিক্ষার্থীদের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, এ জন্য আপনাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ।
প্রিন্সিপালস মিটে ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল পার্টনার স্কুলস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ প্রদান করা হয়। ছয়টি পৃথক ক্যাটাগরিতে স্কুলগুলোকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো—ক্লাইমেট অ্যাকশন, ডিজিটাল লার্নিং এক্সিলেন্স, ইকুয়ালিটি, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন (ইডিআই), লিডারশিপ ইন টিচিং, সেফগার্ডিং এবং ওয়েলবিইং। একটি স্বতন্ত্র বিচারক প্যানেল নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্কুলগুলোর জমাকৃত কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এই বিজয়ীদের নির্বাচন করেছে।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব মার্কেট জুনায়েদ আহমেদ বলেন, পার্টনার স্কুলগুলো কেবল সনদ অর্জনের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি শিক্ষকদের এমন একটি কমিউনিটি যেখানে তারা নতুন জ্ঞান আহরণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারেন। আয়োজনে স্কুলপ্রধানরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্কুল নেতৃত্ব ও উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। এগুলো শিক্ষকদের এমন এক কমিউনিটি, যেখানে সবাই প্রতিনিয়ত শিখছেন, নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের ভালো কাজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পাঠদান ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে এর প্রভাব; বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের নানা উপায়; স্কুল নেতৃত্ব ও উদ্ভাবন; একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ব্রিটিশ কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্কুলপ্রধানদের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া কনটিনিউয়িং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য এবং সামাজিক ও আবেগীয় শিক্ষার ওপর বিশেষ সেশন পরিচালনা করা হয়। প্রতিবছর ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের পার্টনার স্কুলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব জোরদারের অংশ হিসেবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে, যা একই সঙ্গে নতুন ভাবনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।





