ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। এর আগে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি যেমন রয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তা আরও দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারত সরকার নজর দেবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশা করে। বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই সম্ভব এবং সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গুঞ্জন নাকচ
যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিত্তিহীন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন শামা ওবায়েদ। প্রধানমন্ত্রী স্যান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু এফবিআইয়ের মামলা বা ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব গুজব বা গুঞ্জনে কান দেওয়া ঠিক নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যতা যাচাই করে খবর প্রকাশ করাই প্রত্যাশিত। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্যান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। মূলত আইসিটি উপদেষ্টা, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা ও তাকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন, মালয়েশিয়া ও জাতিসংঘের সফরগুলো অত্যন্ত কার্যকর ছিল এবং সব প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনা শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা
- যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইউসি বার্কলে ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
- এই সমঝোতা স্মারকগুলো শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- হাই-টেক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করলে এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য তুরস্ক সফর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর একটি তুরস্ক সফরসূচি রয়েছে। তবে সফরের সময় ও স্থান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।




