২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে দারুণ পারফর্ম করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশের আগে ফুটবল বিশ্বে তাকে নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো কেইনকে এবারের পুরস্কারের অন্যতম প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছে। তবে ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ব্যক্তিগত গোল নয়, বড় শিরোপা জয় ব্যালন ডি’অর পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে।
১৯৫৬ সালে এই পুরস্কার চালুর পর থেকে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় আসরের সাফল্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের বছরগুলোতে ববি চার্লটন, পাওলো রসি, লোথার ম্যাথাউস, জিনেদিন জিদান, রোনালদো ও ফাবিও কানাভারোর মতো তারকারা শিরোপা জয়ের বছরেই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সুবাদে লুকা মদরিচও সেই ধারার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে পুরস্কারটি নিজের করে নিয়েছিলেন।
তবে কেইনের এবারের পরিসংখ্যান যে কোনো যুক্তিতেই শক্তিশালী। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তিনি মোট ৭৩টি গোল করেছেন। এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৬১টি এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ১২টি গোল রয়েছে। বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জেতাতে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড কেবল লিওনেল মেসির, যিনি ২০১১-১২ মৌসুমে ৮২ গোল করেছিলেন।
কেইনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের শিরোপা খরা। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তৃতীয় হলেও শিরোপা জিততে পারেনি, আর বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ফলে রদ্রি ও লামিনে ইয়ামাল তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। রদ্রি বিশ্বকাপ সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি স্পেনকে শিরোপা জিতিয়েছেন, আর ইয়ামাল বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতাতে ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, মাইকেল ওলিসে ও জুড বেলিংহ্যামও আলোচনায় আছেন। কেইন যদি শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি জেতেন, তবে তিনি হবেন ইতিহাসের পঞ্চম ইংলিশ ব্যালন ডি’অরজয়ী এবং ১৯৯৬ সালের ম্যাথিয়াস সামারের পর প্রথম বুন্দেসলিগা খেলোয়াড় হিসেবে এই সম্মান অর্জন করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোল ৭৩টি; বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৬১ এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ১২।






