কিংবদন্তি ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেবাগের ছেলে হিসেবে ১৮ বছর বয়সী আর্যবীর শেবাগের নামের সঙ্গে বাড়তি প্রত্যাশা ও আলোচনা জড়িয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এই মহাতারকার ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের ব্যাটেই পরিচিতি গড়তে চান এই তরুণ। ক্রিকেট ইতিহাসে বিখ্যাত বাবার নামের ভার বহন করার কঠিন দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেমনটি দেখা গেছে শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন টেন্ডুলকারের ক্ষেত্রে। আর্যবীর অবশ্য এসব নিয়ে বাড়তি কোনো চাপ নিতে নারাজ। খবরের পাতায় বাবার পরিচিতির চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং ব্যাটের রানই যেন বেশি প্রাধান্য পায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি এগোচ্ছেন।
সম্প্রতি ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক সিরিজটি আর্যবীরের জন্য এক বড় অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিরিজে নিজের খেলা তিনটি ম্যাচে যথাক্রমে ২৮, ৪৭ (রানআউট হওয়ার আগে) এবং ৩৪ রান করেন তিনি। প্রতি ম্যাচেই ক্রিজে থিতু হয়েও বড় রানের দেখা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই তরুণ। ভারতীয় ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, উইকেটে সেট হয়েও ইনিংসগুলো বড় করতে না পারার খামতি তিনি বুঝতে পারছেন। ক্রিকেটে নিজের জন্য আলাদা জায়গা ও সম্মান তৈরি করতে হলে বড় স্কোরের কোনো বিকল্প নেই, তা এখন তার কাছে স্পষ্ট।
বাবার আকাশচুম্বী খ্যাতির কারণে চারপাশের বাড়তি কৌতূহল কীভাবে সামলান, তা নিয়ে আর্যবীরের ভাবনা বেশ পরিণত। তিনি জানান, বাবার অর্জনে তিনি অত্যন্ত গর্ববোধ করলেও এই পদবির কারণে কখনো বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েন না। বাইরের কোনো প্রশংসা কিংবা আলোচনা-সমালোচনাকে তিনি নিজের ওপর প্রভাব ফেলতে দেন না।
ছেলের এই নির্ভার মানসিকতা তৈরির পেছনে বাবা বীরেন্দ্র শেবাগের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অভিষেকের দিন বীরেন্দ্র শেবাগ যে গ্যালারিতে বসে ছেলের খেলা দেখছিলেন, সেটি আর্যবীর প্রথমে জানতেনই না। প্যাভিলিয়নে ফেরার পর দলের ম্যানেজারের কাছ থেকে তিনি প্রথম এ খবর পান। সেদিন রাতে ফোনে বাবা তাকে শুধু বলেছিলেন কোনো দ্বিধা বা বাড়তি চিন্তা না রেখে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে।
ব্যাটিংয়ের কৌশল সম্পর্কে আর্যবীর বলেন, তার বাবা সবসময় তাকে ব্যাটিং প্রক্রিয়াটি সহজ রাখার পরামর্শ দেন। যে বলটি মারার উপযোগী সেটি সীমানাছাড়া করা, অযাচিত বল ছেড়ে দেওয়া এবং রক্ষণাত্মক বল সোজা ব্যাটে সামলানোই তার মূল দর্শন। বাবার মতে, জটিল টেকনিকের চেয়ে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকাটাই ২২ গজে টিকে থাকার আসল চাবিকাঠি।
ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় এখনও অনেক কিছু শেখার বাকি আছে তরুণ আর্যবীরের। চারপাশের কোলাহল এড়িয়ে উইকেটে থিতু হওয়া এবং সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার শিক্ষাই এখন নিচ্ছেন তিনি। মাঠের লড়াইয়ে সফল হতে নিজের লক্ষ্যটি খুব পরিষ্কার রাখতে চান এই তরুণ, কারণ তার বিশ্বাস—চিন্তা যত সরল ও পরিষ্কার থাকবে, মাঠের পারফরম্যান্সও ততটাই ভালো হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক্সপ্লেইনার / ৯ লাখ টাকার আপসনামা কি গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের মামলা শেষ করে দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা / জব্দ করা অস্ত্র-গুলি নথিবদ্ধ না করেই বরিশাল র্যাবের কাছে পাঠিয়েছিলেন জিয়াউল আহসান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাভারে বাসে আগুন: ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি ও বাস মালিকসহ ৭০ জনের নামে মামলা।





