জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ প্রাতরাশ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় গত বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতিসংঘে অবস্থিত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর চলমান কর্মসূচিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রধান একটি কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়সমূহ
- বৈশ্বিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ।
- বাংলাদেশে সামাজিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় দাতব্য সংস্থার ভূমিকা।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা ও যৌথ মানবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ।
প্রাতরাশ এই বৈঠকের পরপরই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৌঁছান। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা সংকট সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ‘সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন আহ্বান: দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথে’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং তাদের নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
আজকের সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক আরও একটি উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও অভিজ্ঞতা তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সাধারণ বিতর্কে এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর প্রথম ঐতিহাসিক ভাষণ। সব মিলিয়ে এই সফরে মানবিক সংকট নিরসন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সহযোগিতা বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে বৈশ্বিক পর্যায়ে দাতব্য ও মানবিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।





