এশিয়ান গেমসের শুরুতে বাংলাদেশের জন্য সময়টা মোটেও ভালো ছিল না। প্রথম দিনে আটটি খেলায় অংশ নিয়ে প্রতিটিতেই হারের মুখ দেখতে হয়েছে লাল-সবুজের অ্যাথলেটদের। ক্রিকেট ও হকিতে বড় ব্যবধানে হারের পাশাপাশি টেবিল টেনিস ও কারাতেতেও বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা সেভাবে লড়াই করতে পারেননি। তবে দ্বিতীয় দিনের সকালে কাবাডি থেকে আসা জয় সেই হতাশা অনেকটাই দূর করে দিয়েছে। নাগোয়ার টোকাইদো জিমনেশিয়ামে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারিয়ে পুরুষ কাবাডি দল পদক জয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ১৭-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে রৌপ্য পদকজয়ী দক্ষিণ কোরিয়া কাবাডিতে বেশ শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। তাদের বিপক্ষে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের সঠিক নির্দেশনার ফলেই এই জয় সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কোরিয়ার দুই খেলোয়াড়কে মার্ক করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। খেলোয়াড়রা তা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে, যার ফলে কঠোর লড়াইয়ের পরও জয় আমাদের পক্ষে এসেছে।
তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই, কারণ আজ বিকেলেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ। এবার প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে। কোচ আব্দুল জলিল মনে করেন, পদকের লড়াইয়ে টিকে থাকতে এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, চাইনিজ তাইপেকে হারাতে পারলে আমরা পদকের খুব কাছাকাছি পৌঁছাব। মূলত তাইপের বিপক্ষের ফলের ওপরই আমাদের পদক প্রাপ্তি অনেকটা নির্ভর করছে। এক দিনে দুই ম্যাচ খেললেও কোনো অজুহাত দেওয়ার অবকাশ নেই। খেলোয়াড়রা কোরিয়াকে হারিয়ে উজ্জীবিত এবং দলে কোনো ইনজুরি সমস্যাও নেই।
এশিয়ান গেমসের কাবাডিতে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে খেলছে, যেখানে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও স্বাগতিক জাপানও রয়েছে। উভয় গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে এবং শেষ চারের সবাই পদক পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। সবশেষ ২০০২ সালের এশিয়ান গেমসে কাবাডি থেকে পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর নাগোয়াতে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ, যার সূচনা হয়েছে কোরিয়াকে হারানোর মাধ্যমে। এখন বিকেলের ম্যাচে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে জয়ই বলে দেবে সেই স্বপ্নের উজ্জ্বলতা কতটা বাড়ছে।






