গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বার বাড়ি এলাকার ‘এএমসি নিট কম্পোজিট লিমিটেড’-এর গার্মেন্টস ও কাটিং বিভাগের (ইউনিট-২) প্রায় ৫৮৫ জন শ্রমিক হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কারখানাটিতে লে-অফ ঘোষণার প্রতিবাদে এবং দ্রুত কাজ পুনরায় চালু করার দাবিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তাদের দাবি, কোনো পূর্বালোচনা ছাড়াই কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দ্রুত কারখানা খুলে দিয়ে কাজে ফেরার সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের ভাষ্য, কারখানা চালু হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারায় তারা বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রথমে কারখানাটিতে হঠাৎ দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১০ অক্টোবর কারখানার সামনে লে-অফের নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। পাওনা ও চাকরির ভবিষ্যত নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শ্রমিকদের মধ্যে। কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, উৎপাদন ঘাটতি এবং বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১০ অক্টোবর থেকে ওই বিভাগের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত উৎপাদনকাজ না থাকা ও বয়লারের সমস্যার কারণে ১০ অক্টোবর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শ্রমিকদের জন্য লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।
কাজের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত আয় বন্ধ হওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এদিকে, সোমবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ও ঝুট ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন। পরে উত্তেজনার এক পর্যায়ে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে তারা মহাসড়কের ময়মনসিংহগামী লেনে অবস্থান নেন, যার ফলে প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। তারা বলেন, পরিবারের ভরণপোষণ, ঘরভাড়া ও খাবারসহ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন। কারখানাটি আবার চালু হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে এবং দাবি সমাধানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা সড়ক থেকে সরে যান। সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুর রহমান জানান, শ্রমিকরা অল্প সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেছিলেন, পরে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বড় কোনো বিশৃঙ্খলা বা দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়নি।





