শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য বাজলেও বরিশালে এবার একটি নতুন ঢাকও বিক্রি করতে পারেননি স্থানীয় কারিগরেরা। পূজা মৌসুমে যেখানে আগে ১০ থেকে ১২টি নতুন ঢাকের বায়না মিলত, সেখানে এবার তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। চাহিদা না থাকায় চরম দুর্দিনে দিন কাটাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী এসব বাদ্যযন্ত্র তৈরির কারিগরেরা। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় আহত ৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে: শামা ওবায়েদ। রাষ্ট্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে, লড়াই চলবে: সংবাদ সম্মেলনে ককরোচরা। ডেঙ্গুতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, মৃত্যু ৪।
বরিশাল শহরের প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো জল তরঙ্গ বাদ্যযন্ত্রের দোকানে ঘুরে দেখা গেছে, দুই ভাই বাবুল দাস ও মন্টু দাস নতুন বাদ্য তৈরি করতে না পেরে এখন কেবল মেরামতকাজ নিয়ে ব্যস্ত। কারিগর বাবুল দাস জানান, অন্যান্য বছর পূজার আগে অন্তত ৮ থেকে ১০টি নতুন ঢাক বিক্রি হতো। কিন্তু এবার একটি নতুন ঢাকও বিক্রি হয়নি, কেবল পুরোনো ১০টি ঢাক মেরামতের কাজ এসেছে। দুই ভাই বাবুল দাস ও মন্টু দাসের সময় কাটছে তাদের প্রায় ৬০ বছরের পারিবারিক দোকান জল তরঙ্গে পুরোনো ঢাক ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র মেরামত করে। তাদের পরিবার ঐতিহ্যগতভাবেই তালবাদ্য তৈরি ও মেরামতের কাজ করে আসছে বরিশাল শহরে। মন্টু জানান, সাধারণত নিমকাঠ দিয়ে ঢোল তৈরি করা হয়।
বাদ্যযন্ত্রের বাজার ও উপকরণের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আরেক কারিগর মন্টু দাস জানান, বাজারে বর্তমানে একটি ঢাক ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া ঢোল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, খোল ৩ হাজার টাকা এবং তবলা ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি জানান, ঢোল তৈরির প্রধান অনুষঙ্গ নিমকাঠের সংকট চরম আকার ধারণ করায় এখন কাজ করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। গত দুই-তিন বছর ধরে সার্বিকভাবে বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে বলে জানান তারা। এ দুই ভাই জানান, গত ২-৩ বছরে বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা অনেক কমে গেছে।
লোকজ সংস্কৃতি ও বাদ্যযন্ত্রের এমন মন্দার বিষয়ে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ঘোষ বলেন, তাদের আওতাধীন ৩৭টি সংগঠনের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে যে বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। উৎসব-আয়োজন সংকুচিত হয়ে পড়ায় লোকজ বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা ও বিক্রি দুটিই তলানিতে ঠেকেছে।
সংস্কৃতিকর্মী ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্র বটব্যালের মতে, সার্বিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থমকে যাওয়ায় বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঘরোয়া পরিবেশ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক চর্চা ও আয়োজন নতুন করে শুরু না হলে এই সংকট দূর করা সম্ভব নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু।
ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহ কমার কথা জানান বরিশালের স্থানীয় তবলা শিল্পী গণেশ দাসও। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রথাগত বাদ্যযন্ত্র শেখার ঝোঁক আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে কেনাবেচাও কমে গেছে। তবে একই সময়ে লোকজ বাদ্যযন্ত্র ছেড়ে পাশ্চাত্য সংগীতের নানা বাদ্যযন্ত্র কেনার দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।




