চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে অপ্রয়োজনীয় ডাব খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ডিভিশনাল ট্রেনিং অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ কর্মশালায় তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে ডাবের খোসার স্তূপ জমে পানি আটকে থাকছে, যা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। মশা ডাবের মিষ্টি অংশ পছন্দ করায় এই উচ্ছিষ্ট ডেঙ্গু বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও রোগীদের সাধারণ স্যালাইনের বদলে ডাব বা মাল্টা খাওয়ার যে বাড়তি ঝোঁক রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনার তাগিদ দেন তিনি। বর্তমানে ডাব খাওয়ার প্রবণতা এতোটাই বেড়েছে যে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে গেলে ডাবের খোসা ও উচ্ছিষ্টের স্তূপ দেখা যায়। এভাবে ডাব ও মাল্টা খেয়ে কৃত্রিমভাবে সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ স্যালাইন খেলেই যেখানে কাজ চলে, সেখানে ডাব খেতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে এমনটি হচ্ছে।
মশারি টাঙিয়ে করা প্রতীকী প্রতিবাদের প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া কোনো রোগ নয়। যারা এমন কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নগরের সংখ্যা ১০ জন এবং জেলার ১৩ জন। অথচ অনেকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি বিশেষ করে সীতাকুণ্ডে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বের দিকে আঙুল তোলেন। অথচ চসিক এলাকায় মারা গেছেন মাত্র ১০ জন। জেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে সীতাকুণ্ডে, যা আমার এলাকার বাইরে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মেয়র জানান, চলতি বছর চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৫১৭ জন। পক্ষান্তরে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ১১৬ জন। চসিকের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরের প্রধান হাসপাতালগুলোতে জেলার রোগীদের চাপ বেশি থাকায় সেগুলোর দায়ও চসিকের ওপর পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত ‘বিটিআই’ লার্ভিসাইড ব্যবহারের ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর আক্রান্তের হার কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মেয়র আরও বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সেপ্টেম্বর মাসে প্রকোপ কিছুটা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি ফজরের নামাজের পর দিনে ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করতে জনগণের প্রতি পরামর্শ দেন, কারণ দিনের বেলা এডিস মশা বেশি সক্রিয় থাকে। ভুল তথ্য বা গুজব না ছড়িয়ে সঠিক পরিস্থিতি অনুধাবনের আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. জসিম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মনির-উজ-জামান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া আল-আজিজ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার হাশমিরা হায়দার চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন প্রেস ক্লাবের সামনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের ব্যর্থতার অভিযোগে প্রতীকী প্রতিবাদ ও গণশুনানি করেছিলেন, যা নিয়ে মেয়রের এই বক্তব্য এল। প্রেস ক্লাবের সামনে মশারি টাঙিয়ে বা চেহারা দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে সমস্যার প্রকৃত সমাধান হয় না।




