সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত, চিকিৎসাধীন আইসিইউতে।
- রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিশন বিক্রিয়া শুরু।
- বরিশালে দুর্গাপূজায় ঢাক বিক্রির অভাবে কারিগরদের মানবেতর জীবন।
- ডেঙ্গু প্রকোপে রেকর্ড রোগী ভর্তি, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪ জনের।
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় বড় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই আন্দোলনের অগ্রভাগে রয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনেক নাগরিক তাদের ভোটাধিকার হারাতে পারেন, যা ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চক্রান্ত। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, অযোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ডেঙ্গুতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, মৃত্যু ৪। সমাবেশের আগেই আজ শুক্রবার সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে। পাশাপাশি, সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, একই ব্যক্তির একাধিক নাম এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এই কার্যক্রমের ফলে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য সুবিধা তৈরি করবে।
নিরাপত্তা ও আইনি বিধিনিষেধ
- নয়াদিল্লিতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
- যন্তর মন্তরের ৪ কিলোমিটার এলাকায় আজ রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।
- পুলিশ সমাবেশস্থলে অনুমতি দেয়নি এবং মেট্রোরেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্ট মেট্রোরেল সেবা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিকল্প বিক্ষোভস্থলের ব্যবস্থা বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন।
- এ পর্যন্ত বিক্ষোভে জড়িত সন্দেহে প্রায় ৫ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে হলুদ ধাতব ব্যারিকেড বসিয়ে এলাকাটি কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। এএফপি এবং পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের দমনে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সিজেপি কর্মী সৌরভ দাস দিল্লি পুলিশকে বিজেপির নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনীর মতো আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ভয় দেখিয়ে এই আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের রাজধানীজুড়ে দুর্ভোগে ফেলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, পরিস্থিতির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি শনিবার দিল্লি পৌঁছে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করবেন। এর আগে মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সিজেপি যন্তর মন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিল, যার জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। রাষ্ট্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে, লড়াই চলবে: সংবাদ সম্মেলনে ককরোচরা। দিল্লিতে মিছিল থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ আটক অনেকে।






