অবশেষে সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। মেধা ও যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন তার নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিয়োগপত্র জারি করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশে তাকে এই পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৩১ বছর বয়সী মিশন আচার্যের রোল নম্বর ৬৫১৫৩২৮১৭। জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, তিনি গ্রেড-১৩ ভুক্ত ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা বেতনক্রমে এই চাকরিতে যোগ দেবেন। তাকে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যোগ দিতে ব্যর্থ হলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
এর আগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফল হলেও ভেরিফিকেশন পর্যায়ে স্থায়ী ঠিকানার জটিলতায় মিশন আচার্যের স্বপ্ন হোঁচট খেয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, বাবা হারানো মিশন আচার্যের পরিবার দীর্ঘ ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে ঝিনাইদহ পৌর শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে তার নাগরিক সনদ ও জন্মনিবন্ধন রয়েছে এবং পরিবারের সবার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কলাবাগান গ্রামের নামই উল্লেখ করা আছে।
নিয়োগ পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্ত অতিবাহিত করেন মিশন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই নিয়োগপত্র হাতে পাওয়াকে তার শিক্ষক হওয়ার সংগ্রামের চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই তিনি নতুন কর্মজীবনে যাত্রা শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।




