সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে বিজেপি। দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাষষ্ঠীর দিন এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা রাজীব কুমার, সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি কোয়েলের নাম রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সেই নির্বাচনে জয়লাভের পর গত ৬ এপ্রিল কোয়েল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো সংসদীয় অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই ১৬ জুলাই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। কোয়েলের ইস্তফাপত্রটি উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে পৌঁছানোর পরই রাজনীতির অন্দরমহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। সেই ভাঙন পর্বের মাঝেই গত ১৬ জুলাই দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে দেখা করেন অভিনেত্রী তথা সংসদ সদস্য কোয়েল মল্লিক। কোয়েলের ক্ষেত্রেও যে তেমনটা হতে পারে, তা নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা। রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ধরাশায়ী হওয়ার পর পর ভাঙনপর্ব শুরু হয় তৃণমূলে।
পদত্যাগের ঠিক পরপরই ১৬ জুলাই কোয়েল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যা দলবদল নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটায়। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৯ জুলাই তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। যোগদানের কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের তিনজনকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিজেপি। এরপর তারা পুনরায় রাজ্যসভার সদস্য হন। গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল সেখান থেকেই।
তৃণমূলের বিদ্রোহী সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বেশ উত্তপ্ত ছিল। এই বিদ্রোহী নেতারা পরবর্তী সময়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই গঠন করেন এবং নিজেকে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ-র শরিক হিসেবে দাবি করেন। এর আগে লোকসভার বিদ্রোহী সদস্যরাও বেশ কয়েকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সব মিলিয়ে তৃণমূলত্যাগী সংসদ সদস্যদের বিজেপির টিকিটে পুনর্বাসনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, কোয়েল মল্লিকের মনোনয়ন তাকেই পূর্ণতা দিল। রবিবার (৩ অক্টোবর) সেই গুঞ্জনেই সীলমোহর দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তৃণমূলত্যাগী অপর তিন জনকে আগেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে পদ্মশিবির।

