সমাজের নানা অসংগতি, মানবিক সংকট এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ এবার তার গানে তুলে ধরেছেন যৌতুক প্রথার ভয়াবহ দিকগুলো। ‘যৌতুক’ শিরোনামের এই নতুন গানটির সুর করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল এবং রাফসান। গানটি এখন ইউটিউব চ্যানেলসহ ‘খালিদ সংগীত’-এর বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।
গানের কথায় যৌতুককে একটি সামাজিক অভিশাপ ও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গীতিকার দেখিয়েছেন, কীভাবে যৌতুকের লোভে নারীর প্রতি সহিংসতা ও অ্যাসিড-সন্ত্রাসের মতো ঘটনা ঘটে এবং একটি সুন্দর সংসার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গানের একটি অংশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘যৌতুক ব্যাধি যৌতুক যন্ত্রণা/ যৌতুক অভিশাপ/ সইবো না আর যৌতুকের জ্বালা/ যৌতুক অপরাধ।’ পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বৈষম্য না করে তাদের সুশিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মাহবুবুল খালিদ। তার মতে, শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতা সামাজিক অন্যায় প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় শক্তি।
মাহবুবুল খালিদ দীর্ঘকাল ধরে সমাজ সচেতনতামূলক গান লিখে আসছেন। তার কাজের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে নির্যাতিত মানুষের পক্ষে প্রতিবাদ। অতীতে মিরপুরের শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে নিয়ে তিনি ‘আদুরি’ এবং সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে ‘ফেলানীরে করল গুলি’র মতো প্রতিবাদী গান লিখেছেন। মাগুরার শিশু আছিয়াকে কেন্দ্র করে রচিত ‘মাগুরার ফুল’ গানটি তাকে বাইফা অ্যাওয়ার্ড এনে দিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ‘রামিসার বিচার’ শিরোনামের আরেকটি গানও তিনি প্রকাশ করেছেন।
কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাই নয়, আন্তর্জাতিক সংকটের চিত্রও তার গানে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকটের ওপরও তিনি একাধিক গান লিখেছেন। খেলাধুলা, দেশপ্রেম ও লোকগীতির পাশাপাশি সামাজিক অসংগতি নিয়ে লেখা তার এই সৃষ্টিগুলো সমসাময়িক বাস্তবতাকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে এই নতুন গানটিও একটি বলিষ্ঠ প্রতিবাদ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

