জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও কেবল মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি সংকট দূর হলো, তা নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই কমিটির প্রথম বৈঠকে জ্বালানি পণ্যের দাম নির্ধারণ ও তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি-র ভূমিকা নিয়েও বিশদ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এবং বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
বৈঠকে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসের জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ওই সময়ে পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। মাঝরাতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক জ্বালানি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। সেই সংকটকালীন সময়ে এবং পরবর্তীতে জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরেও দাম বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি কীভাবে স্বাভাবিক হলো, তার যৌক্তিক কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
কমিটি পরবর্তী বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, মজুত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক প্রস্তুতির বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি খাতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং মূল্য সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সংকট নিরসনে বিপিসি ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর ভূমিকা ও কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।




