চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২১ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করে ‘অনলাইন ভিসি মানব না’ বলে স্লোগান দেন। নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আগমন ঠেকাতে রাত জেগে শিক্ষার্থীরা পাহারা বসান এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি অঙ্কন করেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চুয়েট শিক্ষক সমিতি ও কর্মচারী সমিতি পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রোববার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুপুর দেড়টায় ‘৫৬’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, ২টায় পথনাটক এবং ৫৬ কর্নারে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের স্মৃতিবিজড়িত বোর্ড প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রতীকী কর্মসূচি, ২টা পথনাট্য ও ৫৬ কর্নার। অন্যথায় আমাদের কর্মসূচি প্রতিদিনই নতুন মাত্রা পাবে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনে নতুন গতি আসে।
পুরকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বদরুন মনির মহসিন জানান, নতুন উপাচার্যের নিয়োগ তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল না করলে কর্মসূচি আরও কঠোর হবে। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজনও একই সুরে জানান, শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় শিক্ষার্থীরাও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র জমা দেন। এই ঘটনার পর আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। এদিকে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের একাংশের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত হলে দ্রুত ক্যাম্পাসে যোগদানের আশা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ আমাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আছে।






