অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে দুই বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৪৭ জন বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা এই ৪৭ জনের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ এবং চারজন নারী রয়েছেন। তাদের বাড়ি নড়াইল, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, উন্নত জীবন ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা প্রায় আড়াই বছর আগে সীমান্তপথে তাদের ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে নিয়ে যায়। সেখানে বিভিন্ন কৃষিখামার ও বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে তারা আটক হন। পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষে তারা তামিলনাড়ুর সালেমের আত্তর ও ত্রিচি এলাকার দুটি বেসরকারি শেল্টার হোমে অবস্থান করছিলেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও দুই দেশের দূতাবাসের সমন্বিত উদ্যোগে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিট নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে। এরপর যশোর মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের তিনটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে।
যশোর মহিলা আইনজীবী সমিতির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রেখা বিশ্বাস জানিয়েছেন, ফেরত আসা ৪৭ জনকে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আগামীকাল তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ফেরত আসা ব্যক্তিরা। এদিকে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালদের প্রলোভনে পড়ে মানুষ যে ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে, তা থেকে বাঁচতে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্টরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।






