অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ব্রিটিশ সরকারের সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। কাতার, তুরস্ক, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাজ্যের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এবং এসব বসতির সঙ্গে সব ধরনের লেনদেনের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। মিলিব্যান্ডের ভাষ্যমতে, ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এর পেছনে ‘বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীরা’ জড়িত। যদিও এসব হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সমালোচকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইসরায়েল সরকার এসব সহিংসতাকে কেবল প্রশ্রয়ই দিচ্ছে না, বরং উৎসাহিতও করছে।
যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার পরপরই ফ্রান্স ও কানাডার নেতারাও এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার এবং বসতি ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন পৃথকভাবে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করবে অথবা ইউরোপীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগকে সমর্থন জানাবে।
আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা ইসরায়েলের প্রতি বসতি স্থাপন কার্যক্রম এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া সব ধরনের ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনা ‘পূর্ণাঙ্গ ও অবিলম্বে’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। যদিও ইসরায়েল বরাবরই এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্পষ্ট করেছেন যে, ন্যায্য, দীর্ঘস্থায়ী ও সামগ্রিক শান্তি অর্জনের একমাত্র কার্যকর পথ হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন এবং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
এদিকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সেবা দেওয়া ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্রে কর্মরত ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্রিটিশ কার্যক্রম বন্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবরের দিকেও নজর রয়েছে। এর মধ্যে রিট খারিজ হওয়ায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের জন্য গ্রামীণ কল্যাণকে নোটিশ দিতে যাচ্ছে এনবিআর। এছাড়া টুইন টাওয়ার হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্ক ও বিশ্লেষণ চলছে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি; গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৯২ জন। এছাড়া ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রায় প্রতিদিনই বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে যুক্তরাজ্য বসতিগুলোর সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন ইসরায়েলি কিছু পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ডাক ‘বন্ধু’ আমিরাতের, সঙ্গে আরও ৭ মুসলিম দেশ।






