
জামালপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়াম রোববার বিকেলে ফুটবলীয় আবেগের এক অনন্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি খেলা শুরুর অনেক আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল আর মাঠের উত্তেজনায় ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছিল পুরো শহর।
ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা ফুটবল দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। অত্যন্ত টানটান উত্তেজনার এই পর্যায়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা ৪-৩ গোলে জয়লাভ করে। মাঠে উপস্থিত প্রায় ৫০ হাজার দর্শক দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই উপভোগ করেন। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ জানান, এমন বিপুল দর্শকের উপস্থিতি জেলার তরুণদের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে উৎসাহিত করবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ফুটবলের পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন।
পুরস্কার বিতরণী পর্বে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, ফরিদুল কবির তালুকদার এবং সুলতান মাহমুদ। ২৩ আগস্ট শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে জেলার আটটি উপজেলা ও পৌরসভার দলগুলো অংশ নিয়েছিল।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গাতেও শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী ম্যাচে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ ২-০ গোলে দর্শনা পৌরসভা একাদশকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) হয়েছেন শাকিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, সিভিল সার্জন হাদী মো. জিয়াউদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরিফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কবুতর অবমুক্তকরণ এবং মনোমুগ্ধকর থিম সং ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী আয়োজকরা জানিয়েছেন, খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অনাচার থেকে দূরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। চুয়াডাঙ্গার এই টুর্নামেন্টে মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে। আগামী সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও জীবননগর উপজেলা একাদশের মধ্যকার পরবর্তী খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। মাঠের দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও মাঠমুখী মানুষের সমাগম প্রমাণ করছে যে, চুয়াডাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গনেও ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গোলের সুযোগ তৈরি হলেই একসঙ্গে উঠে আসে হাজারো কণ্ঠের চিৎকার, আর বল গোলপোস্টের দিকে যেতেই উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ গ্যালারির রেলিং ধরে, আবার কেউ উঁচু জায়গায় উঠে খেলা দেখছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ রোববার দুপুর থেকেই জামালপুরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুটবল খেলা দেখতে মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় যেন বলে দিচ্ছিল—জামালপুরে ফুটবল এখনো মানুষের আবেগেরই আরেক নাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়, তখন ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনা এবং নাটকীয়তা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০