পুলিশ বাহিনীর হাতেগোনা কিছু সদস্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ভার পুরো বাহিনীর ওপর চাপানো সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। আইজিপি জানান, গত দুই বছরে মোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬০ জনের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয় এবং বাকিদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, পুলিশ যখন কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে, তখন তাদের লক্ষ্য করে নানা গুজব ও মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয়। তিনি ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র বিরুদ্ধে প্রকৃত সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পুলিশের মধ্যে অপরাধে জড়িত সদস্যের হার এক শতাংশেরও কম, যা প্রায় শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এই সামান্য সংখ্যক সদস্যের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীকে দায়ী করা অযৌক্তিক।
আইজিপি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত হয়েছে, যেখানে আমানতকারীরা নিজেদের টাকা ফিরে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি সবাইকে ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাহাস বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা না থাকলে রাষ্ট্র অকার্যকর হয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
অপরাধীদের বারবার আইনের আওতায় আনা সত্ত্বেও আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘসময় আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের একাধিকবার গ্রেফতার করা হলেও আইনি ফাঁকফোকরের কারণে তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে পুলিশ প্রধান বলেন, মাদক ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে। অনেক সময় মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় নামে তরুণদের কাছে উপস্থাপন করা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে প্রযুক্তি তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং এআইজি ইসমাইল হোসেন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, অভিভাবক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘‘আমাদের পুলিশেও খারাপ লোক আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো, তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে অপবাদ দিয়ে কারও মনোবল নষ্ট করার বিরুদ্ধেও সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। চাকরির আরও তথ্য: আমানতের টাকা ফেরত পেতে মানুষকে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, মানুষের বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদ থাকলেও বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকলে দেশ অকার্যকর হয়ে যাবে।






