আজ বরেণ্য চিত্রনায়ক ফারুকের জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী শিল্পী এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় নিজের যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অগণিত দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০১৬ সালে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। ২০২৩ সালের ১৫ মে এই কিংবদন্তি অভিনেতা আমাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান।
ফারুকের অভিনয় জীবনের উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘সারেং বৌ’, ‘লাঠিয়াল’, ‘সুজন সখী’, ‘নয়নমণি’, ‘মিয়া ভাই’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সাহেব’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘সখী তুমি কার’, ‘কথা দিলাম’ ও ‘সূর্য গ্রহণ’। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে তিনি বিভিন্ন নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করলেও ববিতা ও কবরীর সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের কাছে ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে এই দুই নায়িকার সঙ্গে তার অভিনীত সিনেমার গানগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল জুটি ফারুক ও ববিতা প্রায় ৪০টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের অভিনীত ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ডুমুরের ফুল’, ‘প্রিয় বান্ধবী’ ও ‘এতিম’ সিনেমাগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘নয়নমণি’ সিনেমার ‘চুল ধইরোনা খোঁপা খুলে যাবে হে নাগর’ গানটি গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন; গানটির কথা লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সুর করেছেন সত্য সাহা। এছাড়া ‘কথা দিলাম’ সিনেমার ‘কী দিয়া যে কী করি’ ও ‘গাঁয়ে এসে এক গাঁয়ের ছেলের প্রেমে পড়েছি’ গান দুটিও দারুণ জনপ্রিয়, যার সুরকার ছিলেন আলম খান।
ফারুক ও ববিতার রসায়ন ফুটে উঠেছে আরও বেশ কিছু গানে। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার ‘জীবনের এই পথে যেতে’ গানটি গেয়েছেন সৈয়দ আবদুল হাদী ও সাবিনা ইয়াসমিন। জহিরুল হক পরিচালিত ‘ঘর জামাই’ সিনেমার ‘পিরিতের বাগানে করি’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এই গানগুলোর সুরকার ছিলেন আলম খান এবং গীতিকার মনিরুজ্জামান মনির।
অন্যদিকে, বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের আরেক জনপ্রিয় জুটি ফারুক ও কবরী। তাদের অভিনীত ‘সুজন সখী’ ও ‘সারেং বৌ’ সিনেমা দুটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘সুজন সখী’ সিনেমার কালজয়ী গান ‘সব সখীরে পার করিতে নেব আনা আনা’ গেয়েছেন আবদুল আলীম, যার কথা ও সুর করেছেন পরিচালক নিজেই।
আবদুল্লাহ আল-মামুন পরিচালিত ‘সারেং বৌ’ সিনেমায় ফারুক ও কবরীর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এই সিনেমার ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি গেয়েছেন আবদুল জব্বার এবং ‘হীরামতি হীরামতি ও হীরামতি’ গানটি গেয়েছেন রথীন্দ্রনাথ রায়। মুকুল চৌধুরীর কথায় গান দুটির সুর করেছিলেন আলম খান। ফারুকের জন্মদিনে তার অভিনীত এই গানগুলো আজও তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।






