সম্প্রতি ‘রূপা’ সিনেমার প্রচারের অংশ হিসেবে অভিনেতা গোবিন্দের সঙ্গে মুম্বাইয়ের লালবাগচা রাজা পূজামণ্ডপে প্রার্থনা করতে যান অভিনেত্রী রানি স্বর্ণকার। সেখানে দুজনকে একসঙ্গে দেখে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আবারও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে রানিকে সিঁদুর পরা অবস্থায় দেখে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন অভিনেত্রী দিব্যা খোসলা। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন রানি। সেখানে তার মাথায় সিঁদুর থাকা নিয়ে যে সমালোচনা হয়, সেই বিতর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলেছেন তিনি।
রানি তার পোস্টে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও সমালোচকদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “কখন থেকে আমার নায়ক এবং আমার আসন্ন সিনেমা ‘রূপা’র সাফল্যের জন্য গণেশের কাছে প্রার্থনা করতে যাওয়া লজ্জার বিষয়, জাতীয় ইস্যু কিংবা অন্যদের কাছে ‘লোকদেখানো’ হয়ে গেল?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রশিল্পের অনেক অভিনেত্রীই প্রচারের সময় তাদের পুরুষ সহশিল্পীদের সঙ্গে জনসমক্ষে আসেন, তাহলে তাকে কেন সমালোচনার মুখে পড়তে হবে? যদিও কোথাও দিব্যার নাম উল্লেখ করেননি তিনি। রানির ভাষায়, “চলচ্চিত্রশিল্পের কিছু অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার থেমে গেছে, তাদের সিনেমা আর বক্স অফিসে চলছে না।
সিঁদুর ও ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রানি কঠোর সমালোচনা করেছেন সেইসব নারীদের, যারা নিজেরাই এই ঐতিহ্যকে সম্মান করেন না। তিনি বলেন, “সিঁদুর, বিয়ে কিংবা আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে আমি এমন নারীদের কাছ থেকে কোনো শিক্ষা নিতে আগ্রহী নই, যারা নিজেরাই সিঁদুরকে উপহাস করেন, যাদের নিজেদের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে এবং যারা নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতাও ধরে রাখতে পারেন না।” অর্থাৎ যারা নিজেদের স্বামীর মর্যাদা ও সুনাম নষ্ট করেন।
নিজেকে বিচার করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে রানি আরও বলেন, “আমি মনে করি না, এমন নারীরা আমাকে বিচার করার যোগ্য। বিশেষ করে যারা এমন মানুষকে আদর্শ ও সমর্থন করেন, যারা সারা জীবন রাতভর মদ্যপান করেছেন, একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং বৃদ্ধ বয়সেও তিন পুরুষের সঙ্গে এক রাতের সম্পর্কের কল্পনা করেছেন।” তিনি সমালোচকদের ‘পুরুষখেকো’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ তোলেন যে, তারা নিজেদের দাম্পত্য জীবনের হতাশা তার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।
রানির মতে, এই সমালোচকরা মূলত নিজেদের ক্যারিয়ারের পড়ন্ত সময়ে আলোচনায় থাকার জন্য অন্যদের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সত্যি বলতে, এসব মানুষ আমাকে ভালো মনে করেন, নাকি খারাপ; তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।” রানি সবাইকে তার ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে এবং তার নামের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় জড়িয়ে আলোচনা না করার আহ্বান জানান। নিজেদের পুরোনো পরিচিতি ছাড়া তাদের হাতে যেন আর কিছুই নেই। তাই অন্য মানুষের চলমান বিতর্কে নাক গলিয়ে এবং মরিয়া হয়ে নিজেদের আলোচনায় রাখার চেষ্টা করছেন তারা। ”।
উল্লেখ্য যে, লালবাগচা রাজায় রানি ও গোবিন্দের যাওয়ার দিনই সেখানে গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজাও উপস্থিত ছিলেন, যা সম্পর্কের নতুন গুঞ্জনকে আরও উসকে দেয়। তবে গোবিন্দ বরাবরই রানির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গোবিন্দের দাবি, রানি কেবল তার সহশিল্পী এবং তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি পেশাগত ও চলচ্চিত্র সংক্রান্ত।
এর আগে দিব্যা খোসলা গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজার দাম্পত্য জীবন নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন। সেইসঙ্গে রানির সিঁদুর পরাকে ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহারের কৌশল হিসেবেও আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে এই ঘটনা বিনোদন অঙ্গনে বেশ বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। Do Not Sell or Share My Personal Information।

