আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া ম্যাচটি যেন একপেশে লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। বুরকিনা ফাসোর গোলকিপারের জালে প্রথমার্ধে ১১টি শট নিয়েছিল আর্জেন্টিনা, বিপরীতে প্রতিপক্ষ একটি শটও নিতে পারেনি। ম্যাচের ৮০ শতাংশ বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার কাছে। খেলার মাত্র অষ্টম মিনিটে আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসো আর্জেন্টিনার গোলের সূচনা করে দেয়। এরপর লাউতারো মার্তিনেজ, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, নিকো পাজ, হুলিয়ান আলভারেজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুলিয়ানো সিমিওনে গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। আর্জেন্টিনার ৭-০ গোলের এই জয়ে বিষ্ময় না জাগলেও একটু খটকা তো লাগতেই পারে। আর্জেন্টিনার বল দখলের হার ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। পরের অর্ধে বুরকিনা ফাসো একটি শট নিতে পারলেও সেটায় হাতে ধরে ধন্যবাদ জানাতে পারেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার মার্তিনেজ।
ম্যাচটি নিয়ে শুরু থেকেই নানা অনিশ্চয়তা ছিল। মরক্কো থেকে চার্টার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বুরকিনা ফাসো দলের আর্জেন্টিনায় পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হয়। কাসাব্লাঙ্কা থেকে এয়ারবাস এ৩৩০-২০৩ মডেলের বিমানে ৯,২৩১ কিলোমিটার পথ ১১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ধরে পাড়ি দিয়ে আর্জেন্টিনা পৌঁছান তারা। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে তারা আর্জেন্টিনায় অবতরণ করে। জেট ল্যাগ কাটানোর সুযোগ না পাওয়ার পাশাপাশি ভ্রমণক্লান্তিতে খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাচ খেলার অনাগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু সাইক্লিং দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হলেও বুরকিনা ফাসো ফুটবল দলের তো এতটা নরম হওয়ার কথা নয়।
বুরকিনা ফাসোর সংবাদমাধ্যম ‘বুরকিনা ২৪’-এর তথ্যমতে, কোচ আমির আব্দোউ শেষ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হন। জাতীয় দলের মূল স্কোয়াড থেকে কেবল মিডফিল্ডার চেক বেবেল দৌউম্বিয়া দলের সঙ্গে ছিলেন। তাই মাঠে নামা বুরকিনা ফাসো দলকে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল বলা কঠিন। ১৯৯৮ সালে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালিস্ট ও ২০১৩ সালের ফাইনালিস্ট দলটির এমন অসহায় আত্মসমর্পণ অনেকটা বাধ্য হয়েই হয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ধীরস্থির খেললেও আরও দুটি গোল আদায় করে নেয়। বিপরীতে বুরকিনা ফাসো পুরো ম্যাচে কেবল একটি শট নিতে পেরেছিল, যা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের জন্য তেমন কোনো পরীক্ষা ছিল না। প্রীতি ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়দের কুশল বিনিময়ে ম্যাচটি শেষ হয়। প্রথমার্ধেই খেলা একপেশে হয়ে গেলেও ফুটবলের নিয়মানুযায়ী দুই দলকে পুরো ৯০ মিনিটই লড়তে হয়েছে। প্রথমার্ধ শেষে মনুমেন্তালের টানেলে ঢুকছিল আর্জেন্টিনা দল। প্রীতি ম্যাচ বলেই তখন এমিলিয়ানো মার্তিনেজদের ডেকে কথাটা বলতে পারতেন দু-একজন সমর্থক। তবু খেলতে হলো, কিংবা ফুটবলের নিয়ম মেনে দুই দলই খেলল। প্রীতি ম্যাচের নামে বুরকিনা ফাসোকে ডেকে এনে লজ্জায় ফেলে দেওয়া আর্জেন্টিনা এই অর্ধে তাঁর ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে কিপটেমি করল আতিথেয়তায়।






