ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। রোবটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলায় তাকে প্রভোস্ট কার্যালয়ে আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক একটি লিখিত বক্তব্যে সই নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও প্রভোস্ট এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার রাত ৯টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বিক্ষোভে ডাকসুর সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সহসভাপতি খন্দকার আবু নাঈম ও সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসানসহ বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাত ১২টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসান আহত হন।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সংগঠন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর হাদী আল মায়েদ দাবি করেন, শিবির বিভিন্ন হল থেকে বহিরাগতদের এনে ‘মব’ তৈরির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করেছে। অন্যদিকে, ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অমর একুশে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও শিবির নেতা ওবায়দুর রহমান হাসিবকে জুতার বস্তা নিয়ে হলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই রাজনৈতিক সংগঠনের বিরোধের কারণে তার ন্যায়বিচারের দাবিটি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, রাত ২টা পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবি জানানো হলেও তা দেখানো হয়নি। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ প্রভোস্টকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।



