অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া বা জনসংখ্যা কমিয়ে ফেলাকেই সেখানকার সংকটের ‘একমাত্র সমাধান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তার দাবি, এই অভিবাসন ছাড়া গাজার কোনো প্রকৃত সমাধান নেই। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রায়ই ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়ার এই বিষয়টিকে ‘স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন’ বা ‘মাইগ্রেশন’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।
তবে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যই হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা। কাটজ দাবি করেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার ধারণাটি ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি নেতাদের কাছে আগে থেকেই সমর্থিত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এমন একটি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে পারে।
ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাটজ বলেন, ‘এই মুহূর্তে ট্রাম্প এটি বাতিল করেননি; বরং তিনি এটি হিমায়িত করে রেখেছেন।’ যদিও ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার কথা ছিল এবং কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কাটজের ভাষ্যমতে, পরিকল্পনাটি এখনো নিয়মিত আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
ইসরায়েল গাজা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আকাশপথ, সমুদ্রপথসহ যেকোনো উপায়ে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কাটজ। তবে গাজার প্রতিবেশী দেশ মিশর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ করতে রাজি নয়। এ বিষয়ে কাটজের মন্তব্য, ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবার স্বার্থেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ এবং উপত্যকাটির পুনর্গঠনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা যেতে চান, তারা যেতে পারবেন এবং ফিরে আসার সুযোগও থাকবে।






